সরকারের সুদ ব্যয় প্রথমবারের মতো এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
মূল বাজেটে সুদ ব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে এক লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এই খরচ আরও বেড়ে গিয়ে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সুদ খাতে মোট ব্যয়ের ২৮ ভাগ চলে যাচ্ছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা খাতের চেয়েও বেশি, যেখানে ২১ ভাগ ব্যয় হচ্ছে।
বিশেষত বিদেশী ঋণের সুদের পরিমাণ বেড়েছে ৬০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যার ফলে ১৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের খরচও ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯ হাজার ৬০৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বৈদেশিক ঋণের শর্তগুলোর কারণে সুদের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধিও এই ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের সুদের হার ২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুদ খাতে খরচ হতে পারে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে এক লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াবে। সুদ ব্যয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে সরকারের ব্যয় সংকোচনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


1 Comments
দেশের সমৃদ্ধি কামনা করছি
ReplyDelete