Editors Choice

3/recent/post-list

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।


পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের তৃতীয় দিনেও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও জনজীবনে স্বাভাবিকতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাঙ্গামাটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি সমাবেশের পর থেকে শহরের পরিবেশ অনেকটা শান্ত হয়েছে। খাগড়াছড়িতেও অবরোধের শেষ দিনে কিছু ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঘটেনি। শহরের ভেতরে ব্যাটারিচালিত টমটম, মোটরবাইকসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে, যদিও দূরপাল্লার যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, স্থানীয় হাটবারে খাগড়াছড়ি সদরে জনসমাগম দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম, কিছু প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। তবে, আজ মঙ্গলবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। সাজেকে অবরোধের কারণে আটকে পড়া এক হাজারের বেশি পর্যটককে এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। রাঙ্গামাটির বনরূপা এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমে স্বাভাবিক হচ্ছে। শনিবারের সম্প্রীতি সমাবেশের পর শহরের পরিবেশ শান্ত হতে শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুনরায় কাজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের আশ্বাসে রোববার সন্ধ্যা থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় রাঙ্গামাটিতে ৯ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। ৪৬টি যানবাহন ও ৮৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের জনজীবন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মানসিক প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

Post a Comment

0 Comments