ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: প্রতিরোধের বার্তা হিজবুল্লাহর
ইসরাইলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবাননে চালানো মারাত্মক বোমা হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। তেলআবিবসহ ইসরাইলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলা পরিচালিত হয়। সোমবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ তিনটি পৃথক বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যেখানে ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতে ভারি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, এই হামলাগুলো ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন এবং লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর হিজবুল্লাহ প্রথমে ইসরাইলের রামাত ডেভিড সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপরে, হাইফার জোফুলন এলাকার রাফায়েল সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সও তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সর্বশেষ হামলায় তারা আইন জায়তিম সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে, যেখানে আরও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও লেবাননের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তারা এটিকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরেছে।
এর আগে, সোমবার সকালে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দক্ষিণ লেবাননের বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ২৭৫ জন নিহত এবং ১০২৪ জন আহত হয়েছে। হামলাগুলো লেবাননের গ্রাম ও শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এই হামলা এবং পাল্টা প্রতিশোধ দক্ষিণ লেবানন এবং ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রতি ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিরোধ হিসেবে হিজবুল্লাহর এই আক্রমণ আগামী দিনগুলোতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


0 Comments