Editors Choice

3/recent/post-list

ব্যাংকিং খাতে ৯১ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

ব্যাংকিং খাতে ৯১ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকারের শেষ বছরে ব্যাংকিং খাতে ৯১ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এ ঋণ নবায়ন বিশেষভাবে আলোচিত, কারণ এত বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নবায়নের নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণ নবায়নের পেছনে হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর বিশেষ প্রভাব ছিল। এস আলম, বেক্সিমকো, নাসা গ্রুপসহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করে নেয়। এই গোষ্ঠীগুলো দাবি করত যে তাদের তদবিরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে, তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাংকের নীতিমালাগুলো শিথিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।

৫ আগস্ট হাসিনার সরকার পতনের পরেও ব্যাংক খাতের ভেতরে তার সমর্থকদের প্রভাব থেকে যায়। তারা ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করে এবং লুটেরাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৪৩.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অনেক প্রার্থী খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিজেদের ঋণ নিয়মিত করেন। নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ঋণখেলাপি না থাকার বিধান থাকায় তারা এই সুবিধা নেন।  

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালের জুলাইয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের নীতিমালা শিথিল করে, যা ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিশাল প্রভাব ফেলে। ঋণ নবায়নে আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে আগে তা ছিল ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে সময়সীমাও পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, যা আগে সর্বোচ্চ তিন বছর ছিল। বিশেষ বিবেচনায় কোনো ঋণ চারবার পর্যন্ত পুনঃতফসিলের সুযোগ পায়, যেখানে পূর্বে তা ছিল তিনবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এভাবে বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করার সুবিধা দেওয়া ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর। পুনঃতফসিলকৃত ঋণগুলো আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে, যা পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। 

আইএমএফের মতে, পুনঃতফসিলকৃত ঋণগুলোকে ‘স্ট্রেসড’ বা ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৮.৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮.৭০ শতাংশ ঋণ আবার খেলাপির খাতায় যুক্ত হয়েছে। একই বছর ব্যাংকগুলো ৭১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করেছে। সবমিলিয়ে, ২০২৩ সালের শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। 

সর্বমোট ঋণের ৩২ দশমিক ১০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়, ব্যাংকিং খাত এখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি। নির্বাচনের বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে এই ধরনের অনিয়ম দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলছে।


Post a Comment

6 Comments

  1. বিগত চোর হাসিনার সকল বিড়াল, কালো বিড়াল থলের বিড়াল বের করে আনার জন্য ধন্যবাদ

    ReplyDelete
  2. হাসিনা চোর ছিল!

    ReplyDelete
  3. এত বড় পুকুর চুরি আমরা ছিলাম অগোচরে।

    ReplyDelete
  4. চোরের বড় পুত্র ছিল গত সরকার, শেখ হাসনিা

    ReplyDelete
  5. এরা দেশটা ধ্বংস করে দিয়েছে।

    ReplyDelete
  6. আমরা পেয়েছি চোরের খনি!!!

    ReplyDelete