সাগর ও রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাব সরিয়ে দিতে আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) সরিয়ে দিতে আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আবেদন সোমবার সকালে আদালতে জমা দেওয়া হয়।
এর আগে, মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এই হত্যার কোনও সুরাহা হয়নি। পুলিশ ও সিআইডির হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব র্যাবের কাছে গেলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ইতোমধ্যে ১১৩ বার পিছিয়েছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। সেই রাতে তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মাহির সারওয়ার মেঘও বাড়িতে উপস্থিত ছিল। ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা থানায় মামলা দায়ের করেন।
শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের ব্যর্থতার কারণে, ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এতদিনেও তদন্তে কোনও সাফল্য মেলেনি। মামলায় গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজন জামিন পেয়েছেন, বাকিরা এখনও কারাগারে রয়েছেন।
সম্প্রতি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, নওশের রোমান নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তিনি একজন নতুন আইনজীবী, শিশির মনির, নিয়োগ দিয়েছেন। শিশির মনির জানান, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে এতদিনে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়ে যেত। এখন মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের আবেদন করা হবে।
সাগর-রুনি হত্যার এক যুগ পরও এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।


5 Comments
আল্লাহ এই বার যদি মামলার গতি বৃদ্ধি করে, ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে সহায়ক হবে।
ReplyDeleteআল্লাহ সহায় হউন।
ReplyDeleteএই বার নাটের গুরু ধরা খাবে।
ReplyDeleteভাল কিছু হবে আশা করছি!
ReplyDeleteআশাবাদী!
ReplyDelete