মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: মুসলিম ও ইহুদি ভোটের 'এক্স ফ্যাক্টর'
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবিরে ভোট দখলের তীব্র লড়াই শুরু হয়ে গেছে। মূলত সাতটি ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য ভোটের জন্য প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। এসব অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়েছে। মধ্য-অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, যাঁরা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, তাদের সংখ্যা ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশের বেশি নয়।
ভোটের জন্য এই তীব্র প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের ফলাফল যথাক্রমে ৭৭ হাজার ও ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২০ সালে জো বাইডেন উইসকনসিনে মাত্র ২০ হাজার ৬৮২ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।
উভয় সংকটে কমলা
এবারের নির্বাচনে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হতে পারে মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার মুসলিম ও ইহুদি ভোট। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পাওয়ার সম্ভাব্য পথ এই দুই অঙ্গরাজ্য ও উইসকনসিনের মাধ্যমে জয়লাভ করা।
কমলা উভয় সংকটে রয়েছেন। ইসরায়েলের পক্ষে কথা বললে আরব-মুসলিম ভোটাররা নাখোশ হচ্ছেন, আবার ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করলে ইহুদি ভোটারদের বিরাগভাজন হতে পারেন।
মুসলিম ভোটারদের কথা আলোচনা হলেও, ইহুদি ভোট নিয়ে আলোচনা কম। মিশিগানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইহুদি ভোটার রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক। তবে এবার তাঁদের ভোটের অনুপাত কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
### মুসলিম ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
বাইডেন ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিলেও, আরব ও মুসলিম ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে কমলা গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেছেন এবং ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সমর্থন করেছেন। কিন্তু অনেক ইহুদি আমেরিকানের মতে, ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা বিশ্বাসঘাতকতার সমার্থক।
নতুন জরিপ অনুযায়ী, ৭১ শতাংশ ইহুদি ভোটার কমলা ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। মাত্র ২৬ শতাংশ বলছেন তাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। তবে রিপাবলিকান জুইশ কোয়ালিশনের জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি ভোটারদের অর্ধেকই ট্রাম্পের সমর্থক।
### পেনসিলভানিয়া ও ট্রাম্পের কৌশল
পেনসিলভানিয়াতেও উল্লেখযোগ্য মুসলিম ও ইহুদি ভোটার রয়েছে। মুসলিম ভোটারদের মাঝে কমলার কৌশল হলো ট্রাম্পের উগ্র ইসরায়েলপন্থী অবস্থানকে সামনে আনা।
কমলার প্রচার শিবির ইহুদি ভোটারদের জন্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। কমলার স্বামী ডাগ এমহফ বিভিন্ন ইহুদি গ্রুপের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করছেন।
ট্রাম্পের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য
তবে, ট্রাম্প নিজেই ইহুদি ভোটের পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি বহুবার ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন, যা তাদের ক্ষিপ্ত করেছে। ইহুদি সংগঠন অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগের প্রধানও তাঁর মন্তব্যকে মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক বলেছেন।
ডেমোক্র্যাটিক জুইশ কাউন্সিল ট্রাম্পের কথাকে নিয়ে একটি মজাদার বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ইহুদি নারী চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ও ইহুদি ভোটের এই দ্বন্দ্ব আগামী নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই শিবিরের জন্য এই ভোটারদের মন জয় করা এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


1 Comments
টান টান উত্তেজনা চলছে।শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কে জয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে পারে।
ReplyDelete