আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন: নয় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি


বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে উন্নয়নের নামে নয়টি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময় তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য সত্ত্বেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তেমন নজির নেই। সরকারের নিজস্ব বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন থেকে এমন চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পগুলো যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের মহোৎসব। ফলে প্রকল্প পরিচালকদের পকেটে চলে গেছে অনেক বেশি অর্থ।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জানান, আইএমইডির প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, আইএমইডির প্রতিবেদন তৈরির পরেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অবসান ঘটেনি।

নয়টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: হাজামজা বা পতিত পুকুর পুনর্খনন, হাতিয়া দ্বীপে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প, এবং ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

আইএমইডির সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন জানান, প্রকল্প মূল্যায়নের সুপারিশ দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয়গুলো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য নয়। এজন্য একটি 'ন্যাশনাল ইভ্যালুয়েশন পলিসি' তৈরি করা হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে 'ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (ফেজ-১)' প্রকল্পে ১৬৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যেখানে পদে পদে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে, 'হাজামজা বা পতিত পুকুর' প্রকল্পের মূল কাজ সম্পন্ন হয়নি, যদিও ২৯টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে।

আইএমইডির ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে দুই বিদ্যুৎ প্রকল্পে নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে বরাদ্দের অতিরিক্ত খরচ ও টার্নকি চুক্তি ছাড়া কাজের ধরন পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। 

এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কার্যকরী ব্যবস্থাপনা না হওয়ার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ঘটেছে। বিভিন্ন প্রকল্পে অডিট আপত্তি উল্লেখযোগ্য হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো নজির নেই।