কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ: নারী বলেই কি পিছিয়ে?
কমলা হ্যারিস নির্বাচনী জরিপে এক জায়গায় থমকে আছেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি জাতীয় জনমত জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু এখন তার অবস্থান তেমন বদলাতে পারেনি। অমীমাংসিত সাতটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প কিছুটা এগিয়ে এবং পেনসিলভানিয়ায় কমলা আধা পয়েন্ট হারিয়েছেন। বিশিষ্ট জরিপ বিশ্লেষক নেইট সিলভার জানিয়েছেন, “মনে হচ্ছে, ট্রাম্পই জিতবেন।”
কমলা হ্যারিস যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়ছেন, তিনি দুবার কংগ্রেসে অভিশংসিত হয়েছেন এবং ৩৪ দফা ফৌজদারি অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। সাবেক রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির কন্যা লিজ চেনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “এই লোকটা প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নয়।” তবুও, ট্রাম্পের বিজয়ের সম্ভাবনা কীভাবে এত কাছে?
অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকা এখনও নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে প্রস্তুত নয়। এই ‘গ্লাস সিলিং’ ভাঙতে হলে কমলার সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যদি তিনি ব্যর্থ হন, তাহলে এর একটি প্রধান কারণ হতে পারে পুরুষ ভোটারদের বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে নারী প্রেসিডেন্টের প্রতি অনাস্থা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে কমলার নির্বাচনী প্রচারণায় এসে আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “তোমরা খোঁড়া অজুহাত দেখাচ্ছ, আদতে কথা হলো নারী বলেই তোমরা কমলার প্রতি ইতস্তত করছ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, কমলা তাদের মতো অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছেন।
ওবামার উদ্বেগের কারণ আছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটাররা যে পরিমাণে বিল ক্লিনটন, ওবামা এবং জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন, কমলার জন্য সেই সমর্থন কমে গেছে। আফ্রিকান-আমেরিকান যুবক এবং তরুণদের মধ্যে কমলার প্রতি আগ্রহ সবচেয়ে কম।
পুরুষ ভোটারদের মধ্যে এই অনাগ্রহের পেছনে একটি কারণ হচ্ছে, ট্রাম্পের শক্তিশালী ও পুরুষোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘আলফা মেল’ হিসেবে পরিচিত এবং তার ‘লড়াকু’ স্বভাব পুরুষদের মধ্যে জনপ্রিয়।
ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে পুরুষদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ উঠেছে। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষেরা পিছিয়ে পড়ছেন। ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার পুরুষেরা রাজনীতিতে তাদের প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ চাচ্ছেন, অন্যথায় তারা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।
কমলার জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলো, দেশের সব বর্ণ ও বয়সের নারীদের মধ্যে তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ২০ পয়েন্ট এগিয়ে। বিশেষত ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরা তার প্রধান সমর্থক।
কমলা এই তথ্য জানেন এবং তাই তার প্রচারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গর্ভপাতের অধিকার এবং নারীর স্বাধীনতা। তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন।
সার্বিকভাবে, এবারের নির্বাচনী লড়াইটি শুধু ট্রাম্প ও কমলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমেরিকার নারী ও পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও।


1 Comments
আমার ভোট আমি দিব,যাকে খুশি তাকে দিব।কিন্তু মেয়ে বলে কাউকে অগ্রাহ্য করতে নেই।পুরুষ হোক বা মহিলা যিনি যোগ্য তাকেই নির্বাচিত করুন।
ReplyDelete