নতুন জাতি গড়ার স্বপ্ন: অধ্যাপক ইউনূসের কথোপকথন
বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত অর্থনীতিবিদ এবং নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত গ্রীষ্মে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই দায়িত্ব গ্রহণের ফলে তার জীবনের গতিপথে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। সম্প্রতি মার্কিন পাবলিক ব্রডকাস্টিং সংস্থা এনপিআর-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই অদ্ভুত পরিবর্তন সম্পর্কে কথা বলেন।
২০০৬ সালের নোবেল বিজয়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ অধ্যাপক ইউনূস, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিচারাধীন ছিলেন। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে তাকে কারাবাসের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তবে, শেখ হাসিনার বিদায়ের পরই দেশ পরিচালনার জন্য তাকে ডাকা হয়।
এনপিআর-এর সাথে আলাপচারিতায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "এটি ছিল খুব অদ্ভুত ঘটনা। আমি প্যারিসে ছিলাম এবং ভাবছিলাম, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার করা হবে কি না। তখনই ফোন আসে, শেখ হাসিনা চলে গেছেন, আপনাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।"
তিনি আরও জানান, ছাত্রদের অনুরোধে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মত হন। ছাত্রদের বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার যুবক জীবন উৎসর্গ করেছিল, যা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। “যদি তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ লড়াই করতে পারে, তাহলে আমার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো,” বলেন ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয় যে, বিক্ষোভের শুরুতে দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়, শেখ হাসিনার দল সমর্থন করায় আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ইউনূস ব্যাখ্যা করেন, “শেখ হাসিনার অনুসারী হওয়ায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে, এবং সেটা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেও হতে পারে।”
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং জনগণকে প্রতিশোধের পথ ছেড়ে সংস্কারের দিকে নিয়ে আসতে উদ্যোগী হন। যদিও প্রথম কয়েক সপ্তাহে প্রতিশোধের ঘটনা ঘটেছিল, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে তিনি বলেন, "বিরোধীরা দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।"
অধ্যাপক ইউনূসের মতে, বাংলাদেশকে একটি নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংস্কারের প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমরা দেশকে নতুন করে গড়তে চাই, যেখানে পুরনো স্টাইলে আর ফিরতে হবে না। এই পরিবর্তনই হচ্ছে বাংলাদেশ ২.০।"
অধ্যাপক ইউনূসের বয়স এখন ৮৪ বছর। সাক্ষাৎকারের শেষে যখন তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে নতুন রূপে দেখার আশা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, "আমি হয়তো পুরোটা দেখে যেতে পারব না, তবে এটি হওয়ার পথে দেখতে পেলে আমি খুশি হব। তরুণরাই ভবিষ্যৎ গড়বে, তাদেরকেই নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হবে।"
এই আলাপচারিতায় অধ্যাপক ইউনূসের স্বপ্ন এবং দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে থাকবে।


5 Comments
আমরা আশাবাদী।
ReplyDeleteআমরা অবশ্যই ভাল কিছু আশা করছি।
ReplyDeleteআমরা ভাল কিছু চাই।
ReplyDeleteWe always expect good environment.
ReplyDeleteনতুন বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশা
ReplyDelete