Editors Choice

3/recent/post-list

শ্রম অধিকার লঙ্ঘনে বাংলাদেশ: অক্সফামের প্রতিবেদন

শ্রম অধিকার লঙ্ঘনে বাংলাদেশ: অক্সফামের প্রতিবেদন


বিশ্বের যেসব দেশে শ্রম অধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। অক্সফামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের সবচেয়ে নিচের ১০টি দেশের কাতারে, যেখানে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬১তম। শ্রমিকের অধিকার রক্ষায়ও বাংলাদেশ তলানির ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে, এ ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান ১৫৫তম।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম এবং ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে ‘দ্য কমিটমেন্ট টু রিডিউসিং ইনইক্যুয়ালিটি (সিআরআই) ইনডেক্স ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমতা হ্রাসের অঙ্গীকার সূচকে বাংলাদেশ চলতি ২০২৪ সালে ১৭ ধাপ পিছিয়ে ১২৪তম স্থানে নেমে গেছে, যা ২০২২ সালে ১১৭তম ছিল। বাংলাদেশের সরকারী সেবায় অবস্থান ১৩৫, করনীতিতে ৭১ এবং শ্রমে ১১৮। 


সাউথ এশিয়ায় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ১২৭তম, পাকিস্তান ১৪১তম, মালদ্বীপ ৬৬তম, নেপাল ১১৫তম এবং শ্রীলঙ্কা ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে।


২০২৪ সালের প্রতিবেদনটি উল্লেখ করছে যে, ৮৪ শতাংশ দেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং ৯০ শতাংশ দেশ শ্রমিকবান্ধব শ্রমনীতি প্রণয়নে পিছিয়েছে। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি কম, এবং তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠনসহ শ্রমিকদের অধিকার নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।”


অক্সফামের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ সালের পর যেসব দেশে করপোরেট আয়কর কমেছে, বাংলাদেশও তাদের মধ্যে আছে। তবে বাংলাদেশের মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, যা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে।


অক্সফামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রশংসিত হলেও ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আয়ের জিনি সহগ ২০০০ সালে শূন্য দশমিক ৪৫০ থেকে ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৪৯৯-তে উন্নীত হয়েছে।


অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, “অসমতা বাড়ছে এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।” 


বাংলাদেশে শ্রম অধিকার ও বৈষম্যহ্রাসের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রেখে সরকারের উচিত যথাযথ নীতি গ্রহণ করা, যাতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা যায় এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা যায়।

Post a Comment

3 Comments

  1. যে দেশে শুধু তেল মাথায় তেল দেয়া হয় সে দেশের পরিণতি এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক।

    ReplyDelete
  2. বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশে এটা কিছুটা থাকবে।

    ReplyDelete
  3. আমরা দরিদ্র তাই এরকম হয়

    ReplyDelete