ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি দেখতে চায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ
রাজনৈতিক পরিসরে আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদী দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এসব দল নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। তারা বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটির নেতারা। এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ ১৩০ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবদুল ওয়াহেদ বলেন, “জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের এই লড়াই ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি অবস্থা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের নেতা ছিলেন খোমেনী ইহসান, যিনি তৎকালীন নির্যাতন প্রতিরোধ ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন। জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে তিনি চব্বিশের কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের নেতৃত্ব দেন।”
তিনি আরও বলেন, “গত ৩ আগস্ট শহিদ মিনার থেকে হাসিনা সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাস্তবায়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে একটি ইশতেহার দিয়েছেন খোমেনী ইহসান। দুঃখজনকভাবে সেই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়নি।”
নতুন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে 'বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ' গঠন করেছি।”
আহ্বায়ক বলেন, “জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন একটি ব্যাপক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এ জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন, রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পরিসরকে ফ্যাসিবাদী দল ও সংগঠন মুক্ত করতে হবে।”
এ সময় নেতারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে তারা বলেন:
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হবে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
- নতুন রাষ্ট্রপতি বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করবেন এবং নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করবেন।
নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে তারা বলেন, “জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মূলনীতির আলোকে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করবে।”
এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিদেশে চিকিৎসার দাবি এবং সমাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।


3 Comments
একজনকে সব দায়িত্ব না দিয়ে, অন্য লোককে দিলে কাজের ভার কমবে। এবং গতিশীল হবে।
ReplyDeleteদায়িত্ব ভাগ করে নিন
ReplyDeleteএটি একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিন্তু ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস স্যার একজন মানুষ, রোবট নন। তাই এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না যেটাতে উনার শরীরের উপর চাপ পড়ে।
ReplyDelete