Editors Choice

3/recent/post-list

শীর্ষ গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে জামানত মাত্র ৫ শতাংশ: ব্যাংক খেকোদের দৌরাত্ম্য

শীর্ষ গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে জামানত মাত্র ৫ শতাংশ: ব্যাংক খেকোদের দৌরাত্ম্য


বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দেখা যাচ্ছে alarming পরিস্থিতি, যেখানে শীর্ষ গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে জামানত মাত্র ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। পুঞ্জীভূত ঋণের বিপরীতে এই জামানত রীতিমতো উদ্বেগজনক। ব্যাংক থেকে নামেমাত্র ঋণ তোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যথেষ্ট জামানত রাখার বিধান না মানা হচ্ছে, ফলে ঋণ এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। 

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম) এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের মতো নামকরা ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এসব ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে নতুন ঋণ তৈরি করে পুরনো ঋণ পরিশোধ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১০০ কোটি টাকার ঋণে ৫ কোটি টাকার জামানত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ২০০ কোটি, তারপর ৫০০ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে, অথচ জামানত অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।

এছাড়া, শিকদার গ্রুপের ঋণ বেড়ে আড়াই হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, এবং এস আলমের ঋণও ৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে জামানতের পরিমাণ অপরিবর্তিত। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খেকোরা জনগণের আমানতের প্রতি অবিচার করছে, অথচ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৩-৪ শতাংশ দেখানো হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব পরিস্থিতির দিকে নজর দিচ্ছেন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আসার পর ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করা হয়েছে। তিনি ঋণের অবস্থা এবং জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিদর্শন শুরু করেছেন।
বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের একটি চক্র চলছে। বছর বছরের পর বছর ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ না করলেও এগুলো নিয়মিত দেখানো হয়। প্রকৃত মুনাফা না করেও ভুয়া মুনাফা ভাগ করে নেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে, বিশেষ করে এস আলমের মালিকানায় থাকা ব্যাংকগুলোর, যেমন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রাহকরা তাদের আমানত ফেরতের জন্য আন্দোলন শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে যে, যেসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই, সেই গ্রাহকদের অন্যান্য সম্পদ ঋণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ঋণ পরিশোধ না হলে এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের মালিকানায় নেয়া হবে।

এভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। ব্যাংক খেকোদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments