Editors Choice

3/recent/post-list

রোহিঙ্গা সঙ্কটের আন্তর্জাতিক সমাধান চান ড. ইউনূস

রোহিঙ্গা সঙ্কটের আন্তর্জাতিক সমাধান চান ড. ইউনূস

রোহিঙ্গা সঙ্কটের দ্রুত ও আন্তর্জাতিক সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। 


শুক্রবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইউএনবির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখব। মালয়েশিয়া আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে পারি না। এটি এমন একটি বিষয় যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করতে হবে।”


ড. ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মালয়েশিয়ার জন্যও একটি সমস্যা, কারণ সেখানে স্বল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আসিয়ান, মালয়েশিয়ার সরকার এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে একসাথে কাজ করতে হবে।”


২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়া আসিয়ানের পরবর্তী সভাপতি হতে যাচ্ছে। অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সঙ্কটের দুটি দিক তুলে ধরেন—গত ৭ বছর ধরে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে এবং প্রতি বছর গড়ে ৩২ হাজার নতুন শিশু জন্ম নিচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জন্মহার নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়; তারা উদ্বিগ্ন কী ঘটছে তা নিয়ে।”


তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি একটি টিকিং টাইম-বোম্ব, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।” অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের সাথে প্রতিদিন নতুন রোহিঙ্গার প্রবেশ ঘটছে এবং এই উদ্বেগ তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। 


অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, মালয়েশিয়া আসিয়ান ও আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে। 


২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 


২০২৪ সালে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশপাশের সম্প্রদায়ের জন্য ৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের সাহায্য প্রার্থনা করেছে, তবে ইউএনএইচসিআর-এর মতে, এই আবেদনটির জন্য অর্থায়ন এখনও অপর্যাপ্ত। 


অধ্যাপক ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠক করেন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে, যা পরবর্তীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে অব্যাহত থাকে।

Post a Comment

2 Comments

  1. Go ahead and take a initiative for better future.

    ReplyDelete
  2. আমরাও চাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।

    ReplyDelete