কারাগারে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ৫ ব্যক্তি


গত বছর ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পান ইরানের নার্গিস মোহাম্মদী, যিনি নারী অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি তেহরানের এভিন কারাগারে বন্দী রয়েছেন। নার্গিস ছাড়া আরো চার ব্যক্তি জেলে থাকার সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।

১. ১৯৩৫: কার্ল ফন ওসিৎস্কি, জার্মানি

জার্মান সাংবাদিক ও শান্তিবাদী কার্ল ফন ওসিৎস্কি ১৯৩৫ সালে একটি নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি অসলোতে পুরস্কার গ্রহণের জন্য যেতে পারেননি, কারণ তার ভ্রমণ ছিল নিষিদ্ধ। ১৯৩৮ সালে বন্দী অবস্থাতেই তিনি মারা যান।

২. ১৯৯১: অং সান সু চি, মিয়ানমার

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন, যখন তিনি গৃহবন্দী ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে পুরস্কার গ্রহণের জন্য তার দুই ছেলে এবং স্বামী উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে তার অনুপস্থিতির স্মরণে একটি চেয়ার খালি রাখা হয়েছিল।

৩. ২০১০: লিউ জিয়াওবো, চীন

চীনা ভিন্নমতাবলম্বী লিউ জিয়াওবো ২০১০ সালে জেলে থাকা অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তিনি ১১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। পুরস্কার ঘোষণার পর তার স্ত্রীকে গৃহবন্দী করা হয়। ২০১৭ সালে তিনি লিভার ক্যান্সারে মারা যান।

৪. ২০২২: আলেস বিয়ালিয়াৎস্কি, বেলারুশ

বেলারুশের মানবাধিকার কর্মী আলেস বিয়ালিয়াৎস্কি ২০২১ সালের জুলাই মাসে কারাবন্দী হন। ২০২২ সালে তিনি রাশিয়ার মেমোরিয়াল গ্রুপ এবং ইউক্রেনের সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নথিভুক্ত করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তার স্ত্রী নাটালিয়া পিনচুক তার প্রতিনিধিত্ব করেন।

৫. ২০২৩: নার্গিস মোহাম্মদী, ইরান

নার্গিস মোহাম্মদী ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তিনি নারী অধিকার আইনজীবী এবং নারীদের জন্য স্বাধীনতা ও মৃত্যুদণ্ড বাতিলের জন্য প্রচারণা চালান। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসেন তাকে ‘মুক্তির যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “নার্গিসকে এই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রচারের জন্য তার লড়াইয়ের স্বীকৃতি।”

বর্তমানে নার্গিস মোহাম্মদী তেহরানের এভিন কারাগারে বন্দী রয়েছেন।