Editors Choice

3/recent/post-list

যে উপায়ে কমানো যায় ইন্টারনেটের দাম

যে উপায়ে কমানো যায় ইন্টারনেটের দাম


বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম নিয়ে আলোচনা এবং লেখালেখির অভাব নেই। তবে কার্যকর সমাধানে আসতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্যারেটো রুল অনুযায়ী, ২০ শতাংশ কারণ থেকে ৮০ শতাংশ ফলাফল আসে। এই লেখায় সেই ধারণার আলোকে আলোচনা করা হবে।

ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ ভিডিও কনটেন্ট দ্বারা প্রভাবিত। তাই গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় কনটেন্ট সরবরাহকারীরা তাদের কনটেন্ট সরবরাহের নেটওয়ার্কে (সিডিএন) প্রচুর বিনিয়োগ করছে। ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, গ্রাহকের কাছে কনটেন্ট দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম কমানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে ইন্টারনেট ট্রানজিটের জন্য বিদেশে অর্থ খরচ। এখানে উল্লেখ্য যে, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট কনটেন্ট আসে গুগল, মেটা, নেটফ্লিক্স ও আকামাই থেকে। কনটেন্ট সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পয়েন্ট অব প্রেজেন্স (POP) থেকে পরিচালিত হয়। যদি গুগল এবং অন্যান্য বড় কোম্পানির এই পয়েন্টগুলো বাংলাদেশে স্থাপিত হত, তাহলে ইন্টারনেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম হত এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতাও বৃদ্ধি পেত।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) বিদেশে কনটেন্ট সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা আমাদের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ৫০০ টাকায় মানসম্পন্ন ইন্টারনেট প্রদান করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হলে, কনটেন্ট সরবরাহকারীদের বাংলাদেশের ভেতরে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স স্থাপন করতে দিতে হবে। এই পদক্ষেপ না নিলে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছি।

তবে সমস্যা হচ্ছে, সিডিএন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধা রয়েছে। যদি গুগল বা মেটা বাংলাদেশে তাদের ডেটা সেন্টার স্থাপন করে, তবে সেখানে বিতর্কিত কনটেন্ট থাকলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে? এইসব উদ্বেগের কারণে বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত।

এছাড়া গুগলের ক্যাশ সিস্টেম নিয়েও সমস্যা রয়েছে। গুগল ক্যাশ মানে হচ্ছে, একবার যে কনটেন্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, সেটি পুনরায় ডাউনলোডের জন্য অতিরিক্ত পয়সা দিতে হয় না। কিন্তু বিটিআরসির ২০২১ সালের নির্দেশনায় প্রান্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের থেকে এই ক্যাশ সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছিল, যার ফলে গুগল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সারাংশে, বাংলাদেশে উন্নত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনি ও নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকারের, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একত্রে কাজ করা উচিত, যাতে দেশের মানুষ উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পেতে পারে।

Post a Comment

2 Comments

  1. সুযোগটা সকলের জন্য ভাল

    ReplyDelete
  2. সংশ্লিষ্টদের সকলকে একযোগে কাজ করা উচিত।

    ReplyDelete