Editors Choice

3/recent/post-list

পররাষ্ট্রসচিবের যুক্তরাষ্ট্র সফর: সম্পর্ক জোরদারে ওয়াশিংটনে চারটি বৈঠক

পররাষ্ট্রসচিবের যুক্তরাষ্ট্র সফর: সম্পর্ক জোরদারে ওয়াশিংটনে চারটি বৈঠক



বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিবিড় করার লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে চারটি আলাদা বৈঠক হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি জন বাসসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা ও ওয়াশিংটনে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা।

জানা গেছে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার রাতে পররাষ্ট্রসচিব জসীম উদ্দিন নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন। তিনি সোমবার থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন।

বৈঠকের তালিকায় জন বাসের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিন্ডসে ফোর্ড, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড ভার্মা এবং সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে। এদিন তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন, যেখানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু উপস্থিত থাকবেন।

শুক্রবার, পররাষ্ট্রসচিবের বৈঠক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া এবং বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী শেলবি স্মিথ-উইলসনের সঙ্গে।

গত ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকার কোনো কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেননি। এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছিল, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ড. ইউনূসের একান্ত আলোচনা হয়েছে, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে চায়, তবে নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত সহযোগিতার আশাবাদী। ওয়াশিংটনের ছয়টি বৈঠকে বিভিন্ন খাতে আলোচনা হবে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম ও মানবাধিকার, সুশাসন, দুর্নীতি দমন, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতায় মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ থাকবে, যা ভবিষ্যতে সম্পর্কের অগ্রাধিকারে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।


Post a Comment

2 Comments