সরকারকে চাপে ফেলছে সিন্ডিকেট: ডিম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


ভোক্তাদের পকেট থেকে ২৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডিম ব্যবসায়ীরা। সেপ্টেম্বর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল, কিন্তু রাজধানীর বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। সরকারের বেঁধে দেয়া দাম কেবল কাগজে কলমে রয়েছে, যার কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।


গত ১৫ সেপ্টেম্বর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৪২ টাকা এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭৯ টাকা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এই দাম বাস্তবে পাল্টে গিয়ে ডজন প্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ডিম এবং মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে গত ২০ দিনে ২৮০ কোটি টাকা ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।


লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক মুশতাক খান মনে করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “মানুষ কিছু অ্যাকশন দেখতে চায়, তা দিয়ে সবকিছুর সমাধান হবে না। এখানে কোনো সেক্টরে হাত দিলেই অনিয়ম ধরা পড়ে। বড় কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মানুষ পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।”


সরকারের তরফ থেকে ক্রমাগত পরিস্থিতি উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হলেও, অনেকেই মনে করেন তা বাস্তবতার সাথে মিলে না। অধ্যাপক মুশতাক খান বলেন, “যেহেতু গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। তারা দ্রুত কিছু পরিবর্তন চায়, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এসব দাবি মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো এবং লোকবল নেই।”


তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার একটি সাধারণ সরকারের মতো আচরণ করছে, কিন্তু তারা আসলে বিপ্লবী সরকারের মতো। “তারা ক্ষমতায় এসেছে মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে। এখন মানুষ অ্যাকশন দেখতে চায়,” বলেন অধ্যাপক খান।