Editors Choice

3/recent/post-list

ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ

ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ


শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় তাদের অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটে, যার পর বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক বা আটক অবস্থায় রয়েছেন। এই সংকটের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। 


বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ২০১৮ সালের পর থেকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যার ফলে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের সমর্থিত এই চেয়ারম্যানরা বর্তমানে পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এদের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্র অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে দায়িত্বভার প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্রশাসককে অর্পণ করা হবে। তবে এখন পুরো প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হচ্ছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শতভাগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা। যেসব জনপ্রতিনিধি পূর্বের নির্বাচনে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সেসব নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল, তাদের অপসারণ করা এখন জরুরি বলে মনে করছে সরকার।

বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "ইউপি চেয়ারম্যানরা শেখ হাসিনার সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট। তাদের উপস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য হুমকিস্বরূপ।"
অপরদিকে, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিনের প্রশ্নবিদ্ধ জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে সংস্কার করতে বদ্ধপরিকর।”

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেবা প্রদানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে থাকায় আমাদের পক্ষে সব ইউনিয়নের কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ করতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের জনগণের সেবা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

Post a Comment

2 Comments

  1. আমরা আশাবাদী ভালো কিছুর জন্য

    ReplyDelete
  2. ভাল সিদ্ধান্ত।

    ReplyDelete