Editors Choice

3/recent/post-list

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে সেনাবাহিনী সচেতন: কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে সেনাবাহিনী সচেতন: কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান


সেনাসদরের কর্নেল স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেছেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে যতদিন অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজন মনে করবে। বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সরকারের নির্দেশনায়, এবং সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে, সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে।

সেনাবাহিনীর মাঠে থাকার সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, ‘‘সেনাবাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে অত্যন্ত সচেতন। আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ রয়েছে, যেকোনো অবস্থায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যেন না ঘটে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সেই দিকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

৫ আগস্টের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কাজ করছে। তবে, ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে সড়ক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ শৃঙ্খলা আসেনি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেক কাজ করতে হচ্ছে, তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসেনি। তবে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব পুলিশের। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কোনো সহায়তার প্রয়োজন মনে করে, আমরা তা দিতে প্রস্তুত আছি।’’

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন এবং দেশের পোশাক শিল্পে চলমান সংকট প্রসঙ্গে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান জানান, সরকার পতনের পর সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পে কাজ চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে দেশের ২০৮৯টি গার্মেন্টস কারখানার অধিকাংশই চালু রয়েছে।

এছাড়া, ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক জিয়ার সামাজিকমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত তিন মাসে সেনাবাহিনী ৬,০০০টিরও বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ২,৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ধরনের পদক্ষেপগুলো সেনাবাহিনীর সংকটকালীন সময়ে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন এবং দেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সদা প্রস্তুত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

Post a Comment

1 Comments

  1. আমরা সেনাবাহিনীর উপর আস্থাশীল। ইনশাআল্লাহ ওনারা ভালো কিছুই করবেন।

    ReplyDelete