পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ পরিষেবা চালু: নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচি বন্দরের সঙ্গে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এই নতুন সেবাটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, যদিও এখনও দুই দেশের বাণিজ্য অনেক কম।
এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান দূতাবাসের ফেসবুক পোস্ট, যেখানে পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ জানিয়েছেন যে, এই সরাসরি জাহাজ পরিষেবা বাংলাদেশের এবং পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বাণিজ্যিক পরিপ্রেক্ষিত
বর্তমানে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য খুব বেশি নয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে আমদানি হয়েছে ৭৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য, যার মধ্যে প্রধানত রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল যেমন সুতা-কাপড়, চামড়া, এবং সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ছিল। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয়েছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য, যার মধ্যে কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, চা, এবং তৈরি পোশাক উল্লেখযোগ্য।
তবে, শিপিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাকিস্তান থেকে বর্তমানে প্রতি মাসে এক-দেড় হাজার কনটেইনার পণ্য আমদানি হয়, যা একটি পূর্ণাঙ্গ জাহাজ পরিষেবা চালু করার জন্য যথেষ্ট নয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং শিথিল কড়াকড়ি
তবে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে পণ্য আমদানিতে শিথিলতা এসেছে। এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পাকিস্তান থেকে আমদানি বাড়বে, যার ফলে সরাসরি জাহাজ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, যদিও বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য খুব বেশি নয়, তবে কড়াকড়ি শিথিল করায় ভবিষ্যতে বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এটি প্রথমবারের মতো সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা চালু হলেও, দুই দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ অনিয়মিতভাবে চলাচল করছে।"
কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা: অপারেশন ও খরচ
এই নতুন কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা চালু করেছে দুবাইভিত্তিক শিপিং কোম্পানি 'ফিডার লাইনস ডিএমসিসি', যারা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে অভিজ্ঞ। বাংলাদেশে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে 'রিজেনসি লাইনস লিমিটেড', যা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান।
এই জাহাজ পরিষেবাটি শুধুমাত্র পাকিস্তান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকেও পণ্য পরিবহন করবে। একবার পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে ৩৮ দিন লাগবে, অর্থাৎ পণ্য আনা-নেওয়া করতে সময় লাগবে ৭৬ দিন। বর্তমানে 'এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং' নামক একটি জাহাজ এই পরিষেবা পরিচালনা করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম সেবা
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) 'এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং' জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭০ কনটেইনার পণ্য নিয়ে এসেছে, যার মধ্যে ২৮৯ কনটেইনার খালি ছিল এবং মাত্র একটি কনটেইনারে পণ্য ছিল। তবে, এই প্রথম যাত্রায় পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে, আর পণ্য রপ্তানি হয়েছে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরাসরি কনটেইনার জাহাজ পরিষেবা চালুর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়বে, বিশেষত পণ্য আমদানিতে শিথিলতা আনার পর। আগামীতে এই পরিষেবার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আরো বেশি পণ্য আমদানি হতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।


1 Comments
বাংলাদেশ -পাকিস্তান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে ইনশাআল্লাহ!!!!
ReplyDelete