বেড়েছে ছোলা ও ভোজ্যতেলের দাম, রোজার ৪ মাস আগে থেকেই বাজারে কারসাজি!
রোজার মাত্র চার মাস আগে থেকেই বাজারে চালু হয়েছে পণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজি। একদিকে ছোলা, অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতাদের মাঝে হতাশা বাড়ছে। খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়ে গেছে। একাধিক বাজারে গিয়েও দেখা গেছে ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে ৭ দিনের ব্যবধানে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ছোলার দাম গত ৭ দিনে ৫-১০ টাকা বেড়েছে এবং এখন এটি ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২৫-১৩০ টাকা। মুদি ব্যবসায়ী মো. তুহিন জানান, "আড়তদার ও পাইকাররা কয়েক মাস আগেই ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রোজার সময়ও তারা মূল্য বাড়ানোর জন্য অঘোষিতভাবে কাজ করে থাকে। তাই বাজারে সরকারের নজরদারি এখন থেকেই জোরদার করা প্রয়োজন।"
এদিকে, ভোজ্যতেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের থেকে কিছুটা বেশি। খোলা পাম তেলের দাম বেড়ে ১৫৬ টাকা, আর পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। রাইসব্রান তেলের দামও বেড়েছে, প্রতি লিটার ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, দেশের বাজারে তেলের দাম কমছে না, বরং বাড়ছে। মালিবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মো. হানিফ জানান, “শুল্ক ছাড় এবং ডলারের দাম কমানোর পরেও ভোজ্যতেলের দাম কমছে না, এটি একটি সিন্ডিকেটের কাজ।”
এমন পরিস্থিতিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, "সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তেলসহ অনেক পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কমছে না। সরকারের উচিত বিষয়টি তদন্ত করা এবং যদি কোনো অসাধু কারসাজি হয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।"
এছাড়া, আলুর দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৫ টাকা। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। এক হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫২ টাকা।
বাজারে মসুর ডাল, চিনি, পেঁয়াজসহ আরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়িয়েছে। মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, চিনি ১৩০-১৩৫ টাকায়, দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি, আর রসুনের দাম ২৬০ টাকা কেজি।
এভাবে ক্রমাগত পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে ভোক্তারা।


1 Comments
সরকারের নিত্যপণ্যের বাজারের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। নিত্যপণ্যের এভাবে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলছে।
ReplyDelete