ভয়েস অফ আমেরিকা জরিপ: সব সংস্কার শেষের পর নির্বাচনের পক্ষে ৬৫.৯% মানুষ
বাংলাদেশে চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষের দিকে ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৫.৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব সংস্কার শেষ করার পরই আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। এর মধ্যে ৩১.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, শুধুমাত্র নির্বাচন সম্পর্কিত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করেই নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।
এছাড়া, ১৮.৭ শতাংশ লোক মনে করেন আগামী এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত। ৮.৬ শতাংশের মতে, নির্বাচন ১৮ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, আর ৫.৮ শতাংশ লোক চান চার বছর বা তার বেশি সময় পর নির্বাচন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪.৬ শতাংশ জানেন না কখন নির্বাচন হওয়া উচিত এবং ১.১ শতাংশ উত্তরের ক্ষেত্রে নিরব থাকেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ৫৮.৪% মানুষ মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকার, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় দেশ পরিচালনায় ভালো করছে। যদিও ৪০.৫% মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের মতো ভালো পারফর্ম করছে না বা এরচেয়ে খারাপ করছে।
বাংলাদেশে আইনি ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৩.২% মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে, ২১.৪% মনে করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, আর ১৪.৫% মনে করেন এটি দুই সরকারের আমলে একই রকম ছিল।
এর পাশাপাশি, ৪৯.৮% উত্তরদাতা মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তারা আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ অনুভব করছেন। প্রায় সমান সংখ্যক (৪৯.৯%) উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই নিরাপদ বোধ করেছেন।
এই জরিপটি ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার এডিটোরিয়াল নির্দেশনায় ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড পরিচালনা করেছে। জরিপে বাংলাদেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে কম্পিউটার-সাহায্যপ্রাপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় নিয়ে চলমান আলোচনা এবং বিতর্কের মধ্যে এই জরিপের ফলাফল বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


1 Comments
সংস্কার করে তবেই নির্বাচন দেয়া হোক।
ReplyDelete