যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ, প্রজনন অধিকার ও অভিবাসী নিয়ে ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ট্রাম্পের মেয়াদ শুরু হওয়া এবং তার প্রস্তাবিত নীতি নিয়ে বিরোধিতার কারণে শনিবার (১১ নভেম্বর) বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে নারীদের প্রজনন অধিকার সুরক্ষায় সংশয় এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র ছিল নিউইয়র্ক, সিয়াটল ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহর। নিউইয়র্কের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ারের সামনে এবং সিয়াটলের স্পেস নিডলের বাইরে হাজারো বিক্ষোভকারী একত্রিত হন। বিক্ষোভকারীরা নানা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন, যেমন “আমরা আমাদের রক্ষা করি,” “নারীরা স্বাধীনতার জন্য আর কত সময় অপেক্ষা করবেন?” এবং “আমরা পিছু হটব না।”
পোর্টল্যান্ডে, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো” এবং “ভয়কে শক্তিতে পরিণত করো” এমন স্লোগান দিয়ে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘উইমেন্স মার্চ’ সংগঠনের কর্মীরা হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন, যেখানে “ভালো আচরণের নারীরা ইতিহাস তৈরি করেন না” এবং “যেখানে আমার পছন্দের অধিকার নেই, সেখানে আমার স্বাধীনতা কোথায়?” এমন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
সিয়াটলের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে পোশাক পরেছিলেন। তারা “ট্রাম্প ও দুই দলের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিরুদ্ধে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ” দাবি করেন। একইসঙ্গে, “গণ–আন্দোলন গড়ে তুলুন, যুদ্ধ, নিপীড়ন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে লড়াই করুন” এমন স্লোগানও উঠে আসে।
এই বিক্ষোভগুলো ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার পাশাপাশি, নারীদের প্রজনন অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর, তার শাসনকালের শুরুর দিকে এসব প্রতিবাদ সভা আরও জোরালো হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
এদিকে, বিক্ষোভের মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যদিও ট্রাম্পের সমর্থকরা এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী এবং অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।


1 Comments
আমেরিকায় বিক্ষোভ হয়। আর দেউলিয়া আওয়ামিলীগ ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানায়।
ReplyDelete