কুমিল্লার চান্দিনায় সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মাসে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ
কুমিল্লার চান্দিনায় সাবরেজিস্ট্রার নিরত ভরণ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রার প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের নানা পদ্ধতিতে জিম্মি করে এই অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সাবরেজিস্ট্রার তার অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী, দালাল এবং দলিল লেখকদের মাধ্যমে ঘুষ সংগ্রহ করেন। প্রতিটি দলিলের সেরেস্তা ফি ছাড়াও তিনি অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা আদায় করেন। এছাড়া, নকল দলিলের স্বাক্ষরে ২শ টাকা এবং টিপসই বাবদ ১শ টাকা নেন। এছাড়া, নামের ভুল, ত্রুটিযুক্ত দলিল, বণ্টননামা, দানপত্র, হেবা ঘোষণা, মর্টগেজ ইত্যাদি সংশোধন করতে গিয়ে তিনি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন।
জানা গেছে, চান্দিনা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০টি দলিল সম্পাদিত হয়। এসব দলিলের মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার তার অফিসের পিয়ন রবিউল হোসেন ও ব্যক্তিগত সহকারী কাউছার আহমেদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘুষ আদায় করেন। এসব খাত থেকেই তিনি প্রতিমাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন।
আরেকটি অভিযোগ হলো, ৫০০টি দলিলের মধ্যে প্রায় ১৫০টি দলিলে নানা ধরনের ত্রুটি খুঁজে বের করেন সাবরেজিস্ট্রার, যা সংশোধন করতে সেবাপ্রত্যাশীদের দিতে হয় আরো অতিরিক্ত টাকা। এসব ত্রুটিযুক্ত দলিল থেকে প্রতি মাসে ৩০-৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন তিনি।
সাবরেজিস্ট্রারের অফিসের কর্মচারী ও দালালরা জানান, সেবাপ্রত্যাশীদেরকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। একজন দলিল গ্রহীতা, তফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ৩৫ শতাংশ জমির দলিল করতে গিয়ে সাবরেজিস্ট্রারের অফিসে একাধিকবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রথমে দলিল লেখককে, তারপর পিএস কাউছারের কাছে সেরেস্তার নামে টাকা দিয়েছেন। পরে নকলের জন্য ১শ টাকা, এবং অবশেষে টিপসই বাবদ পিয়ন রবিউলকে ১শ টাকা দিতে হয়েছে। এরপর সাবরেজিস্ট্রার ত্রুটি বের করে দলিল আটকে দেন এবং শেষে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দলিল সম্পাদন হয়।
এদিকে, দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান জানান, "সাবরেজিস্ট্রার অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র অফিসার, কিন্তু তিনি প্রায় প্রতি দলিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুষ নেন।" তিনি আরও জানান, "আমাদের অফিসে অন্য উপজেলার তুলনায় কম টাকা আদায় করা হয়, তবে আমাদের স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিক নয়।"
এই বিষয়ে সাবরেজিস্ট্রার নিরত ভরণ বিশ্বাস জানান, তিনি কোনো ধরনের ঘুষের সঙ্গে জড়িত নন এবং এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে জেলা রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, "সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, চান্দিনার সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সেবা গ্রহণকারী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং অনেকে এই ঘুষ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।


0 Comments