Editors Choice

3/recent/post-list

কাতার সরকার ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে কেন বিফল!

কাতার সরকার ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে কেন বিফল!


কাতার সরকার ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, তাদের প্রচেষ্টা স্থগিত করতে হয়েছে। কারণ, কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। 

এছাড়া, কাতারে হামাসের কার্যালয় বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও রয়েছে দেশটি। যদিও কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তবে ইসরাইল-হামাস সঙ্ঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি তাদের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাতার কিভাবে মধ্যস্থতাকারী হলো

কাতার, ১১ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট একটি ছোট দেশ হলেও, বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করে এবং বিশ্বে মাথাপিছু আয় অনুসারে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ছোট এই দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার ভূমিকা পালন করে আসছে। 

কাতার গত দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘর্ষের মধ্যে **যুদ্ধবিরতি** এবং **শান্তি চুক্তির** মধ্যস্থতা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাতারই ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনার আয়োজন করেছিল, যেখানে ইসরাইলে বন্দি ২৪০ জন ফিলিস্তিনী এবং ফিলিস্তিনে বন্দি ১০৫ জন ইসরাইলি মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

এছাড়া, কাতার ২০২০ সালে আফগানিস্তানে **তালেবান** এবং **যুক্তরাষ্ট্র**-এর মধ্যে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতাও করেছিল। সেই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয় এবং তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করে। কাতার ২০২৩ সালে **যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের** মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তিতেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।

কাতার কেন শান্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা পালন করছে

কাতার শান্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা পালন করার বিষয়টি দেশটির সংবিধানে উল্লেখিত। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "দেশের পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তি হলো আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করা।"

কাতারের কূটনীতিকদের একটি উচ্চ প্রশিক্ষিত দল রয়েছে যারা বিভিন্ন শান্তি আলোচনা তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম। কাতার এমন একটি দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে তারা **হামাস** এবং **তালেবান**-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে, যাদেরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সময় স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কাতার কখনো তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়নি, বরং তারা নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, এমন গোষ্ঠীগুলোর নেতারা কাতারে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করতে নিরাপদ মনে করেন।

কেন ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন

তবে কাতারের জন্য ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল সরকার কাতারকে আক্রমণ করে বলেছে যে তারা **হামাস**-কে সমর্থন করছে, এবং এজন্য তারা কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা করতে অনীহা প্রকাশ করছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে এই সময়কার পরিস্থিতি পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন। **ড. সানাম ভাকিল**, চ্যাথাম হাউসের গবেষক, বলছেন, "ইসরাইল এখন শান্তির চেয়ে নিরাপত্তা চায়, আর হামাস শুধু বেঁচে থাকার জন্য শান্তি চায়। এ কারণে দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা কঠিন।"

কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা স্থগিত করেছে, তবে তারা হামাসের কার্যালয় বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে, হামাস কাতারের দোহাকে তাদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করে, এবং এর ফলে তারা ওই অঞ্চলে থাকাকালীন কোনো ধরনের হামলার শিকার হতে ভীত নয়। 

ড. এইচ এ হেলিয়র মন্তব্য করেন, "কাতার হামাসের নেতাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে। তারা কাতারে থেকে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে, কিন্তু যদি তারা তুরস্ক বা ইরান চলে যায়, তাহলে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের হত্যা করা সহজ হয়ে যাবে।"


কাতার একদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সফল হলেও, ইসরাইল ও হামাসের মতো দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাতার তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং শান্তির প্রতি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি রেখে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ গড়তে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।


Post a Comment

1 Comments

  1. ইসরায়েল একটি শয়তান রাষ্ট্র। তাই তারা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারে না।

    ReplyDelete