আরাকান আর্মি দুই ট্রলারসহ ৬ মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করেছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে
মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) আবারও বাংলাদেশি ট্রলার ও মাঝিমাল্লাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় দুটি ট্রলারসহ ছয় মাঝিমাল্লাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা।
অপহৃত ট্রলার দুটি হলো আবদুর রশিদের মালিকানাধীন **এস বি রাসেল** এবং আবদুর রবের মালিকানাধীন **এ স বি ফারুক**। এ ট্রলার দুটি সেন্ট মার্টিনের দিকে রড, বালু ও সিমেন্ট নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন মালিক আবদুর রশিদ। তিনি আরও জানান, টেকনাফের কেরুনতলী খাল থেকে ট্রলার দুটি যাত্রা শুরু করেছিল এবং প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার পর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর এ হামলা ঘটে।
পরে, মিয়ানমার থেকে কয়েকজন আরাকান আর্মির সদস্য এসে অস্ত্রের মুখে মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে ট্রলার দুটি মিয়ানমারে নিয়ে যায়। অপহৃত মাঝিমাল্লারা হলেন আবদুর রশিদ, আবদুর রবসহ আরো চারজন। তবে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজিবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এখনও পর্যন্ত সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। তবে, বিজিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে, সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে, আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে মাঝিমাল্লাদের নিয়ে গেছে।
এটি নতুন কোন ঘটনা নয়, এর আগে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা আরাকান আর্মি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিশেষ করে, গত জুন মাসে একই এলাকায় গুলি চালানো হয়েছিল একাধিকবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জুন থেকে উপজেলার প্রশাসন সেন্ট মার্টিন নৌপথে সার্ভিস ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে, ট্রলার মালিকরা বিকল্প পথে শাহপরীর দ্বীপ, বদরমোকাম এবং গোলগরা এলাকা দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখেন।
এখনও পর্যন্ত এসব অপহৃত মাঝিমাল্লাদের ফেরত আনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।


1 Comments
আরাকান আর্মিদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
ReplyDelete