কারওয়ান বাজারে টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘ সারি, অনিয়মের অভিযোগ
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ শনিবার (১৮ নভেম্বর) টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের মধ্যে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ট্রাক থেকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য নিতে আসা অনেকেই এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। এ পরিস্থিতিতে সবার মাঝে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।
দ্রুত বেচাকেনা চলছিল না, এমনকি ট্রাকের পাশেই দুইজন ব্যক্তির মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য পণ্য বিতরণ বন্ধও ছিল। ক্রেতাদের অভিযোগ, সিরিয়াল ভেঙে পণ্য কেনার ঘটনা ঘটছে। এমনকি এক ব্যক্তি একাধিকবার পণ্য কিনছেন বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। এই অনিয়মের কারণে অনেকেই যারা দীর্ঘ সময় ধরে সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা পণ্য না পাওয়ার শঙ্কায় পড়েন।
টিসিবির ট্রাক থেকে সাধারণত ৩৫০ জন ক্রেতাকে পণ্য সরবরাহ করা হয়। তবে, অনিয়মের কারণে সিরিয়াল অনুসারে পণ্য না পাওয়ার অভিযোগের ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সারি করা হলেও, নারী সারিতে অনেক শিশুও দেখা গেছে, যাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর, ট্রাক থেকে পণ্য বিতরণ পুনরায় শুরু হলেও সবার মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছিল।
তেজকুনিপাড়া থেকে আসা গৃহবধূ রেহানা বেগম বলেন, “এতক্ষণ ঘরের কাজকর্ম ফেলে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। ৩৫০ জনের জন্য পণ্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এটা সংখ্যায় অপ্রতুল। আরও বেশি পণ্য সরবরাহ করা হলে পরিস্থিতি ভালো হতে পারত।” তিনি আরও বলেন, "ট্রাকে আলু ও পেঁয়াজ থাকলে আরও ভালো হত।"
টিসিবির পণ্য তালিকা ও দাম
আজ সকাল থেকে কারওয়ান বাজারে টিসিবির ট্রাক থেকে তিনটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে:
- প্রতি ক্রেতাকে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল এবং ৫ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
- প্রতি লিটার ভোজ্যতেল দাম ১০০ টাকা,
- প্রতি কেজি মসুর ডাল দাম ৬০ টাকা,
- প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
আজ ঢাকা শহরের ৫০টি স্থানে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে রামপুরা, পলাশ নগর, কলেজ গেট, শেরেবাংলা নির্বাচন কমিশন, খামারবাড়ি মোড়, পান্থপথ মোড় সহ আরও অনেক জায়গা।
মূল্যস্ফীতি ও টিসিবির কার্যক্রম
দেশে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে, যা অক্টোবর মাসে ১০.৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ১২.৬৬ শতাংশ হয়েছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে আসছে।
টিসিবি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, যদি মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না আসে, তাহলে এই কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া, সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরও খোলাবাজারে সাশ্রয়ী দামে চাল, আটা, পেঁয়াজ, ডিম, আলু সহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রি করছে।
এবারের পরিস্থিতি থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে, টিসিবির কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।**


1 Comments
ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!!!
ReplyDelete