২৭০ কোটি টাকার ক্যান্সার প্রকল্পে অনিয়ম: পিডি পালানোর প্রস্তুতিতে
বাংলাদেশের ক্যান্সার স্ক্রিনিং প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২৭০ কোটি টাকার "ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিং এবং জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান" প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করছেন প্রকল্পে কর্মরত চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। তারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা দেশের বাইরে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, প্রকল্পে কর্মরতরা তাদের নির্ধারিত বেতন থেকে অনেক কম পরিমাণ টাকা পেয়েছেন, কিন্তু প্রকল্পের পিডি ভাউচারে তাদের বেতন-ভাতা ১০ গুণ বেশি দেখিয়েছেন। প্রকল্পের কর্মকর্তারা সম্প্রতি এই ভাউচারগুলি ঘেঁটে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাত কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আশরাফুন্নেসার মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে তুলে নেওয়া হলেও কর্মচারীদের কাছে পৌঁছায়নি।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ তাঁদের বিশ্বাস ছিল যে প্রকল্পটি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু এখন প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের আশাহীন হয়ে পড়েছেন।
প্রকল্পের শুরু ২০০৪ সালে হলেও, ২০১৮ সালে "ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিং সিস্টেম" চালু হওয়ার পর এটি আরও বড় আকারে পরিচালিত হতে থাকে। তবে, প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ আউটসোর্সিং কোম্পানি "স্কিল্ড ম্যানপাওয়ার লিমিটেড"-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল, যার মালিক অধ্যাপক আশরাফুন্নেসার মেয়ে জামাই। এই কোম্পানির ঠিকানা ধানমন্ডির একটি ভবনে, যা আসলে অধ্যাপক আশরাফুন্নেসার প্রাইভেট চেম্বারের ঠিকানা।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেতন কম দেখিয়ে প্রকৃত বেতন বেশি দেখিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিজেই বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন। তাঁদের মতে, অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা এভাবে সরকারি অর্থ অপব্যবহার করেছেন এবং এমনকি এই অনিয়মের বিষয়ে নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একসঙ্গে সাত কোটি টাকার বেশি পাওনার দাবি করেছেন, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের পাওনা মেটানো হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, প্রকল্পের পরিচালক পালিয়ে গেলে এই অনিয়মের পরিণতি ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে কোনভাবেই মীমাংসিত হবে না।
এদিকে, প্রকল্পের ভবিষ্যত এবং কর্মকর্তাদের আত্তীকরণের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেয়নি, যার কারণে সংশ্লিষ্টরা হতাশ।
এমনকি প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সরকারি উদ্যোগে স্ক্রিনিং প্রকল্পটি বর্তমানে বড় দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হওয়ার পথে।


2 Comments
অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
ReplyDeleteবেটা বাটপার।
ReplyDelete