রোজানির্ভর ১১ পণ্য আমদানি শুল্ক ও এলসি মার্জিন শিথিল
আগামী পবিত্র রমজান মাসে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে রোজানির্ভর ১১টি পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে: চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর।
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (৬ নভেম্বর) একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, রোজা পর্যন্ত এই ১১ পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম মার্জিন রাখতে হবে, যা সাধারণত ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ২-৫ শতাংশ হতে পারে। এটি আগামী ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্দেশনার সুবিধা
নতুন নির্দেশনায়, ব্যবসায়ীরা কম মার্জিনে এলসি খুলতে পারবেন, যার ফলে তাদের নগদ টাকা খরচ কমবে এবং আমদানির পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে পণ্যের সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে দাম সহনীয় থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, আগে ১০০ টাকার এলসি খুলতে ৩০ টাকা মার্জিন দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে ২ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম নিয়ন্ত্রণ
সরকারি সূত্র জানায়, রোজার আগে পণ্য আমদানি করা এবং সেগুলো দ্রুত বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। একই সঙ্গে, কাঁচামাল আমদানি করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করেও বাজারে ছাড়ার সুযোগ থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে:
1. শুল্ক কমানো: চাল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে, ফলে আমদানির খরচ কমবে এবং পণ্যের দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
2. ডলার সরবরাহ: রোজানির্ভর পণ্য আমদানিতে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডলার সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। যদিও দেশের ডলার সংকট রয়েছে, তবে এই পদক্ষেপে পণ্যের আমদানি সহজ হবে।
3. বাজার তদারকি: বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে এবং ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা তদারকি করা হচ্ছে।
এছাড়া, ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে অথবা ব্যাংক থেকে অর্থ সরবরাহ করে এই পণ্যগুলো আমদানি করতে পারবেন। রোজা উপলক্ষে বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে, সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে।


1 Comments
এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।এটি কার্যকর হলে নিম্নমধ্যবিত্তসহ সকলের অনেক উপকার হবে।
ReplyDelete