সেন্টমার্টিন ভ্রমণ: প্রবেশে কড়াকড়ি, অনুমতি ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বর্তমানে দ্বীপে ভ্রমণের ব্যাপারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। দ্বীপের বাসিন্দা ছাড়া অন্য কোনো পর্যটককে সেখানে যাওয়া বা থাকাও নিষিদ্ধ। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারবেন, তবে রাত্রীযাপন নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে, সেখানে যেতে বিভিন্ন ধরনের বাধা রয়েছে, যার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
### ভ্রমণ করতে চাইলে এনআইডি ও লিখিত অনুমতি প্রয়োজন
সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রবেশ করতে গেলে এখন স্থানীয় প্রশাসন থেকে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হচ্ছে। এই মাসের ৪ তারিখে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেন্টমার্টিনে যেতে গিয়ে বিডব্লিউসি (BBC) রিপোর্টারকেও কোস্টগার্ডের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়েছে।
কক্সবাজার, টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিন ঘুরে এবং স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ চালু করার বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কোনো বাধা না থাকলেও বাইরের পর্যটকদের জন্য সব ধরনের ভ্রমণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ
বর্তমানে সেন্টমার্টিন যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে টেকনাফ থেকে সার্ভিস ট্রলার বা বোট। তবে এসব যাত্রাতেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ছাড়া কাউকে ট্রলারে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি যাত্রীরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, আর কোস্টগার্ডের সদস্যরা নিয়মিত যাত্রীদের এনআইডি যাচাই করছেন।
স্পিডবোট চলাচলও বর্তমানে নিষিদ্ধ, শুধুমাত্র বিশেষ অনুমতি নিয়ে তা চলাচল করতে পারছে। গত বছর মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এবং ইনানী সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত নৌ-জেটি থেকেও সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা হতাশ
এ পরিস্থিতি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য বড় এক সংকট সৃষ্টি করেছে। সেন্টমার্টিনে যারা পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করেছেন, তারা এখন কর্মী আনা ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পর্যটন চালু না হওয়ায় তাদের রিসোর্ট এবং হোটেলগুলোর প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা আরিফুর রহমান রিমন বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।’
দ্বীপে সামাজিক অস্থিরতা
ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক বাধা ছাড়াও, সেন্টমার্টিন দ্বীপে সামাজিক অস্থিরতাও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছেন, এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। তারা অভিযোগ করছেন, পর্যটন সীমিত করার কারণে দ্বীপের মানুষের জীবিকা ও পরিবেশ দুইই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিয়ে সংকট রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার এবং নার্সের অভাব থাকায় চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতির ফলে দ্বীপে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সরকারের অবস্থান
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনের প্রবাল দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পর্যটন সীমিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে দ্বীপটি ডুবে যেতে পারে, আর তাতে পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে যে, পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ
সেন্টমার্টিনের স্থানীয়রা এখনো আশাবাদী যে, খুব শিগগিরই পর্যটন খাত খুলে দেয়া হবে এবং তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। তবে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দ্বীপের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য বিপদজনক হতে পারে।


3 Comments
আমার দেশে এমন কোন স্থান থাকতে পারবে না যেখানে আমি যেতে পারবো না। বিষয়টি সমাধান করুন।
ReplyDeleteপরিবেশ সংরক্ষন করুন কিন্তু যাতায়াত সহজ রাখুন।
ReplyDeleteসবুরে মেওয়া ফলে।দ্রুত হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ক্ষতি করার চেয়ে একটু সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই শ্রেয়।
ReplyDelete