কেন গুম করা হয়েছিল, জানেন না সালাহউদ্দিনপুত্র হুম্মাম
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী দীর্ঘ সাত মাস আয়নাঘরের গুমের শিকার হন। সেখানে থাকা অবস্থায় তিনি ভীষণ নির্যাতনের শিকার হন এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। গুমের পুরো ঘটনা সম্পর্কে এখনও কোনো পরিষ্কার ধারণা পাননি তিনি।
হুম্মাম কাদের বলেন, "গুমের পুরো বিষয়টা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এটা একটি অপারেশনের অংশ ছিল, যা আমি তখন জানতাম না। প্রথমে আমাকে গায়েব করা হয়, তার পরপরই জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আরমান এবং গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকেও গুম করা হয়। আমাদের সবার মধ্যে একটি যোগসূত্র ছিল— আমাদের বাবা সবাই ছিলেন সিনিয়র রাজনীতিবিদ, আর আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।"
তবে হুম্মাম এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কেন তাদেরকে গুম করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "এখন বুঝতে পারছি যে, তারা চেয়েছিল আমাদের পরিবারের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে পরবর্তী প্রজন্ম যাতে প্রতিবাদ করার সাহস না পায়। তারা আমাদের পরিবারের সম্পূর্ণ ধ্বংস চেয়েছিল।"
গুমের সাত মাসে তার ওপর কতটা অত্যাচার হয়েছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আয়নাঘরে থাকার সময় একেবারে একাকী ছিলাম। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না, কখন আমাকে মারধর করা হবে, কখন আমাকে টর্চার করা হবে, কেউ জানতো না। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল মানসিক অত্যাচার। আমাকে বলত, 'তোমাকে এখান থেকে বের করা হবে, কিন্তু কখন তা হবে, কেউ জানে না।'"
খাবার সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রতিদিন সকালে একটা রুটির পিস দেওয়া হতো। মাঝে মাঝে একটা ডিমও পাওয়া যেত। দুপুরে এক পাহাড় ভাত, কিছু সবজি আর এক টুকরা মাছ বা মুরগি দেওয়া হতো—অথচ ভাতের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত বেশি। এত খাবারের পরেও আমি ঠিকভাবে খেতে পারতাম না।"
হুম্মাম কাদের আরও বলেন, "অতিবিপদগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই মনে হতো, মরে গেলেই ভালো হবে। আমার মাথায় একমাত্র চিন্তা ছিল, কীভাবে আমি নিজেকে শেষ করব। অনেক সময় আমি গামছার দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, গামছা দিয়ে যদি ফাঁসি দেই অথবা বাথরুমে গিয়ে গ্লাস দিয়ে নিজেকে কেটে ফেলি। কিন্তু সেই কষ্ট সহ্য করা অসম্ভব ছিল।"
এসময় তিনি আরও বলেন, "আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—বাংলাদেশে যেন আর কখনও আয়নাঘরের মতো ঘর তৈরি না হয়। রাজনীতি যেন কখনও এভাবে পলিটিক্যাল টুলস হিসেবে ব্যবহার না হয়। আমি যেখানেই থাকব, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে কাজ করব।"
হুম্মামের মতে, এখন যে গুম কমিশন কাজ শুরু করেছে, তাদের মাধ্যমে হয়তো কিছু রহস্য উন্মোচিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই কমিশনের তদন্তে গুমের আসল কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানা যাবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, "যতদিন রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকব, আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকবে—দেশে যেন কোন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে কোনো গুম, নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা না হয়। আমি চাই, রাজনীতি কখনও এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, যেখানে মানুষকে মনের বিরুদ্ধে জীবন কাটাতে হয়।"


2 Comments
শেখ হাসিনারে ধরলে কারন জানা যাবে!
ReplyDeleteরাজনীতিটা সবাই যেন দেশের স্বার্থে করে,ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়।
ReplyDelete