গাজীপুরে গাছ থেকে ছিঁড়ে কমলা কিনতে মানুষের ভিড়
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অবস্থিত তাওয়াক্কালনা ফ্রুট কমলাবাগানে এখন যেন উৎসবের আমেজ। সেখানে দর্শনার্থীরা এখন শুধুমাত্র কমলা সংগ্রহের জন্যই আসছেন না, পাশাপাশি ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে বাগানটি ঘুরে দেখছেন, নিজ হাতে গাছ থেকে কমলা তুলে কিনছেন।
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কমলাবাগানটি এবার দ্বিতীয় বারের মতো বাম্পার ফলন পেয়েছে। বাগানের উদ্যোক্তারা হলেন মো. অলিউল্লাহ বাইজিদ, মো. ফারুক আহমেদ, মো. আবদুল মতিন ও মো. আইনুল হক। কৃষির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তাঁরা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বাগানে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা টিকিট ফি। বাগানটিতে প্রবেশের পর প্রথমেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন আঙরবাগান, যেখানে আম, বরই, ড্রাগন, কাঠলিচু সহ আরও নানা ফলের গাছ রয়েছে। বাগানে বিশ্রামের জন্য বাঁশের তৈরি মাচা ও চেয়ারও রয়েছে।
বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মো. সবুজ মিয়া জানান, এখানে দার্জিলিং জাতের ১৫০টি কমলাগাছ রয়েছে। এর পাশাপাশি মান্দারিন জাতের কিছু গাছও রয়েছে, তবে বর্তমানে কেবল দার্জিলিং জাতের কমলা বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে মান্দারিন জাতের কমলা বিক্রি শুরু হবে।
এই কমলাবাগানে গিয়ে নিজ হাতে কমলা সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন রাজীব আহমেদ। তিনি বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানার পর প্রথমবার বাগানে এসেছি। বাজার থেকে কেনার চেয়ে এখানে এসে নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেনাটা অনেক ভালো লাগছে। তাজা, বড় এবং সুস্বাদু কমলা!"
আবু রায়হান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, "কমলাটি অনেক মিষ্টি। রসে ভরপুর। আমি চাই, এই জাতের কমলার চারা বাড়িতে রোপণ করতে।"
উদ্যোক্তাদের একজন, মো. অলিউল্লাহ বাইজিদ বলেন, "প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের ধারণা বাস্তবায়নের পর দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তারা শুধু ফল কেনার জন্যই নয়, নিজেদের বাড়িতে বাগান তৈরি করার জন্যও আগ্রহী হচ্ছেন।"
আরেক উদ্যোক্তা মো. আবদুল মতিন জানান, প্রথমে শখের বশে তারা কিছু ফলের চারা রোপণ করেছিলেন। এরপর ২০২১ সালে ৮ বিঘা জায়গা ১০ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ শুরু করেন। এখানে তারা দেড় বিঘাজুড়ে দুই জাতের কমলার চারা রোপণ করেছেন এবং বাকি জমিতে আম, সফেদা, জাম্বুরা ও ড্রাগন চাষ করছেন।
এই কমলাবাগানটি এখন এলাকার মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান, যেখানে শুধু ফল সংগ্রহ নয়, একটি কৃষি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়ছে প্রতিদিন।


2 Comments
অবিশ্বাস্য সুযোগ।
ReplyDeleteব্যতিক্রমী উদ্যোগ!!!!
ReplyDelete