পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। অর্থ পাচারের ঘটনায় দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে চলে গেছে, যা ফেরানো দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক জানিয়ে দিয়েছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
**বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী**
আবদুলায়ে সেক জানান, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ, তবে সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সালে তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে, বিশেষ করে অর্থ পাচারের সমস্যা। তবে, এই বিষয়ে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক সহায়তার হাত বাড়াতে প্রস্তুত।
**বাজেট সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংককে আহ্বান**
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রকল্প অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প অর্থায়নের বদলে বাজেট সহায়তা পেলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পাবে।
**প্রধান সমস্যাগুলি এবং পরামর্শ**
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের আরেকটি প্রধান সমস্যা হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান রাজস্ব আয় জিডিপির ৮.২ শতাংশ, যা দেশের উন্নয়ন খাতে অপর্যাপ্ত। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের জন্য অর্থ এবং কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, যা বিশ্বব্যাংক নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি আরও জানান, দেশের রাজস্ব আয়ের বেশিরভাগটাই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাতে চলে যায়, ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
**রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা**
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই ইস্যুতে কাজ করছে এবং বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।
**পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো কঠিন, তবে সম্ভব**
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো নিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া, কারণ এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও আন্তর্জাতিক আইন জড়িত থাকে। তবে, বিশ্বব্যাংক তাদের ফরেনসিক সাপোর্ট এবং তদন্ত সক্ষমতা দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং দেশের মূল্যস্ফীতি উচ্চতর হয়েছে, যা দেশের দরিদ্র জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে।
**বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক**
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা প্রদান করেছে। তবে, তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বব্যাংক শুধুমাত্র দাতা নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী।
**বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ**
বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পাশাপাশি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে একটি নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে অন্য দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এভাবে, বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে চায়, বিশেষত পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে।


1 Comments
বিশ্বব্যাংক বরাবরই আমাদের বন্ধু হিসেবে কাজ করেছে।
ReplyDelete