Editors Choice

3/recent/post-list

গাজা চুক্তিতে ফের ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের

গাজা চুক্তিতে ফের ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের


গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনা নতুন প্রস্তাবে আবারও ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে আবারো গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি আটকে গেল।

ওয়াশিংটনের দাবি, যদি এখনই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস হয়, তবে স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা আরও উৎসাহিত হবে, যা বন্দী উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে। জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হামাসের জন্য বিপজ্জনক বার্তা পাঠাবে, কারণ বন্দী মুক্তি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা না হলে তাদের মুক্তি কখনও সম্ভব হবে না।"

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো প্রয়োগের ফলে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে ১০টি সদস্য রাষ্ট্র গাজায় অবিলম্বে, নিঃশর্ত এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি আটকে দেয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় ইসরাইলি বন্দীদের বিষয়ে ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। বন্দীদের ভুলে আমরা তাদের মুক্তির ব্যাপারে কখনও ছাড় দেব না।"

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো এই সংকট সমাধানে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ছিল কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ফল। নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটি ছিল চতুর্থবারের মতো গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালিয়ে এক হাজার ২০৬ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে পণবন্দী করে। এরপর ইসরাইল গাজায় প্রায় ১৪ মাস ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪ হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সম্প্রতি ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রায় ১৭ হাজার শিশু নিহত হয়েছে।


Post a Comment

2 Comments