Editors Choice

3/recent/post-list

হাত বাড়ালেই মেলে অস্ত্র-মাদক: জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধের রাজত্ব

হাত বাড়ালেই মেলে অস্ত্র-মাদক: জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধের রাজত্ব


ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এক ভয়াবহ অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে মাদক বিক্রি, অস্ত্রের ঝনঝনি, খুন-ছিনতাইসহ প্রায় প্রতিটি ধরনের অপরাধ ঘটছে। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই ক্যাম্পে, যারা নিজেদের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। ক্যাম্পের পরিবেশ অত্যন্ত অস্থিতিশীল, যেখানে অপরাধীরা মাদক ব্যবসা, অস্ত্র পাচার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এই ক্যাম্পের অনেক বাসিন্দা নিজেদের পাকিস্তানি শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন এবং তাদের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ লক্ষণীয়। রাজনৈতিকভাবে তাঁদের অনেকেই প্রভাবশালীদের মদদে ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িত। মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী গ্রুপগুলো এখানকার অপরাধ কর্মকাণ্ডে নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করেছে। 

অপরাধীদের আধিপত্য
জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধীরা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে অস্ত্রবাজি ও মাদক ব্যবসা করছে। ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানার অস্ত্র চুরির ঘটনায় গোলাগুলি শুরু হয়, এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। ক্যাম্পের প্রভাবশালী অপরাধী গ্রুপগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করতে প্রতিনিয়ত মারামারি করছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্যাম্পের দেড় হাজারেরও বেশি অপরাধী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত।

মাদক বিক্রির চিত্র
জেনেভা ক্যাম্পে প্রতিদিন মাদক বিক্রির চিত্র দেখা যায়। ক্যাম্পের বিভিন্ন গলিতে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক বিক্রি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে 'পিচ্চি রাজা' নামের এক অপরাধী। তাকে মাদক ব্যবসার সিংহাসনে বসানো হয়েছে, যা ক্যাম্পের সুনামকে আরও কলঙ্কিত করেছে। অনেক সময় পুলিশও এখানে অভিযান চালায় না, যার ফলে মাদক ব্যবসা অবাধে চলে। 

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সহিংসতা
জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধীদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এক ধরনের উত্থান ঘটেছে। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে 'বুনিয়া সোহেল' ও 'চুয়া সেলিম' গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলি বেড়েছে। এই লড়াইয়ে অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা চালানো হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে মদদ পাওয়া গ্রুপগুলোর দ্বারা।

মানবেতর জীবনযাপন
জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জীবন মানবেতর। ঘরবাড়ি সংকীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর এবং অদৃশ্য চাহিদায় ভরা। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করছে, যেখানে এক একটি পরিবার ৮/১০ জনের সঙ্গে একটিমাত্র খুপরি ঘরে থাকতে বাধ্য। শিশুদের বিনোদন হিসেবে রয়েছে ভিডিও গেম এবং ঘুড়ি ওড়ানো, আর বড়দের জন্য বিনোদন ক্যারম ও লুডু খেলা। তবে ক্যাম্পের শিশুরা যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানিয়েছেন, ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে মাদক ব্যবসা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ক্যাম্পের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরতি আসেনি।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন।


Post a Comment

1 Comments

  1. আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সজাগ হতে হবে।

    ReplyDelete