২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনে সৌদি আরবের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পেছনের কারণ

এবার ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজকের ভোটাভুটিতে সৌদি আরবকে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচিত হতে হয়েছে। ফিফার ভার্চুয়াল কংগ্রেসে, যখন আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হয়, তখন সৌদি আরব ছাড়া আর কোনো প্রার্থী ছিল না। ফিফার পক্ষ থেকে সৌদি আরবের নাম ঘোষণা করা হয়, আর সদস্য দেশগুলো তাদের সমর্থন জানিয়ে হাততালি দিয়ে ভোট দেয়।

তবে সৌদি আরবের বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার বিষয়টি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বিতর্কিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ২১টি মানবাধিকার সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবে অধিবাসী, অভিবাসী কর্মী এবং দর্শকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, তার পরও ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মানবাধিকারের প্রতি অবহেলার পরিচায়ক।

তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন সৌদি আরবের বিপক্ষে আর কোনো প্রার্থী দাঁড়ায়নি? সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্বকাপে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। তবে শুধু অর্থ নয়, এর পেছনে আরো একটি বড় সমীকরণও রয়েছে।

ফিফার একটি নিয়ম অনুযায়ী, একই মহাদেশ দুটি consecutive বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে না। এ কারণে ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলো ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের জন্য প্রার্থী হতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর দ্বারা, আর ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হলো স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো।

এ কারণে ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য আসল প্রার্থী ছিলেন শুধুমাত্র এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলো। কিন্তু নিউজিল্যান্ড বাদে বড় কোনো দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া আগেই সরে দাঁড়িয়েছিল। একমাত্র সৌদি আরবই ফিফার সকল শর্ত পূরণ করে, এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য একমাত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ায়।

আরও একটি দৃষ্টিকোণ থেকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজন সম্পর্কে ফিফার সিদ্ধান্তের পর সৌদি আরবের পথ সুগম হয়। ফিফা ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করে। এটি ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য আয়োজকদের সংখ্যা সীমিত করে দেয়।

ফিফার নেয়া কিছু সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির কথা বলে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে-কে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেয়া, ২০৩৪ বিশ্বকাপের দৌড়ে অন্য মহাদেশের প্রার্থীদের বঞ্চিত করে।

সবশেষে, সৌদি আরবের একক প্রার্থী হয়ে ওঠা এবং বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করা, এ বিষয়গুলো সৌদি আরবের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে সৌদি আরবের ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিশ্চিত হয়ে যায়।