Editors Choice

3/recent/post-list

ফিলিস্তিন সঙ্কট: বাংলাদেশের অবিচল অবস্থান ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান

ফিলিস্তিন সঙ্কট: বাংলাদেশের অবিচল অবস্থান ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফিলিস্তিন সঙ্কটের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য বাংলাদেশের অবিচল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মিসরের রাজধানী কায়রোতে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের সময় তিনি এক বিশেষ অধিবেশনে বলেন, “আমরা সকল পক্ষ ও বাইরের স্টেকহোল্ডারদের ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা বন্ধ করতে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাই।” অধিবেশনটি “গাজা ও লেবাননে মানবিক সঙ্কট ও পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জ” বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা এমন একটি সময়ে একত্রিত হয়েছেন, যখন গাজা ও পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ১৪ মাস ধরে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। তিনি এই বর্বরতাকে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের প্রতি ইসরাইলের অবজ্ঞা প্রকাশে গভীর হতাশা জানান।

তিনি আরও বলেন, লেবাননে বিরোধের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। অধ্যাপক ইউনূস ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বাংলাদেশের ঐক্য ও অটুট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অব্যাহত দখলদারিত্ব ও সহিংস দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে।”

২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূস বলেন, ফিলিস্তিনকে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সাম্প্রতিক মতামতও উল্লেখ করেন, যেখানে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের জনগণ ফিলিস্তিনিদের জন্য উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ফিলিস্তিনিরা হেলাফেলার যোগ্য নয়, প্রতিটি ফিলিস্তিনির জীবন গুরুত্বপূর্ণ।" অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সঙ্কট শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, এটি একটি সর্বজনীন বিষয়, যেখানে মানুষের মর্যাদা পরীক্ষার সম্মুখীন।

তিনি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ৬০ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গাজা, পশ্চিমতীর ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং এসব অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রয়াস জোরদার করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এ ধরনের জবাবদিহি ভবিষ্যতে নৃশংসতা রোধ করতে পারে।” তিনি মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াও গাজা ও লেবাননের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করেছে যে, ইসরাইলের বোমা হামলায় ৪০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ অপসারণে কমপক্ষে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে এবং এসব ধ্বংসস্তূপে ১০ হাজারের বেশি লাশ থাকতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস ডি-৮ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, গাজা ও লেবাননের পুনর্গঠন ব্যয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কৌশল প্রণয়ন করা হোক।

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের এ বিশেষ অধিবেশনে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

1 Comments

  1. বাংলাদেশের মতো সকল রাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ান।ওদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।

    ReplyDelete