এক দেশ, এক নির্বাচন’র পথে ভারত

ভারত এখন এমন একটি নির্বাচনি মডেল তৈরি করতে চাইছে, যেখানে নাগরিকরা একসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার (ফেডারেল) নির্বাচন করার সুযোগ পাবে। এই প্রস্তাবের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সায় দিয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিল অনুমোদন করেছে। এই বিলটি পার্লামেন্টের চলমান অধিবেশনে পাসের জন্য তোলা হতে পারে।

ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ছয় দশক পর ভারত আবার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ পদ্ধতি চালু করতে চাইছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সংসদীয় এবং রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতে এক দেশ, এক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচনে এটি কার্যকর করা হয়। তবে ১৯৬৭ সালে ভারত শেষবারের মতো ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করে। সেই সময় ভারতের সব রাজ্যে একযোগে ভোট হলেও, উত্তর প্রদেশে (সাবেক যুক্তপ্রদেশ) চার দফায় ভোট হয়েছিল।

১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে, যেখানে ৫২০টি লোকসভা আসন এবং ৩,৫৬৩টি বিধানসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হয়। তবে, এরপর দেশটিতে জোট রাজনীতি বাড়তে থাকে, এবং একসঙ্গে ভোটের পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

১৯৬৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসই ছিল ভারতের একমাত্র শাসক দল, কিন্তু তখন দলটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু প্রয়াত হওয়ার পর, তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীও বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হন। ১৯৬২ সালে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর কংগ্রেসের শক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্ষমতাসীন বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়।

বর্তমানে, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ পুনরায় চালু করার প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতে নির্বাচনী সংস্কৃতির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।