Editors Choice

3/recent/post-list

মিয়ানমার সংকটে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের কৌশল

মিয়ানমার সংকটে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের কৌশল

মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বৈঠকে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ মোট ছয়টি দেশ অংশ নেবে। ব্যাংককে আগামী বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার পরপর দু’টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এই বৈঠকে প্রথমে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ, চীন, ভারত, লাওস, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি। পরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পর্যায়ের আরও একটি বৈঠক হবে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া যোগ দেবে। তবে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশের পাশে থাকা রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে। এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোর জন্য নানা কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ভারত, চীন ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ

রাখাইন রাজ্যে ভারতের অর্থায়নে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্পের কাজ চলছে, যা কলকাতা থেকে সিতওয়ে পর্যন্ত সড়কপথ ও নৌপথে সংযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুবিধা বাড়ানো হবে। কিন্তু বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে থাকা এলাকা এই প্রকল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় আরাকান আর্মি ভারতের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, চীন রাখাইনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে। সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরের উন্নয়ন কাজ করছে চীন। এই অঞ্চলে গ্যাস এবং তেলের পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অঞ্চলে চীন ও ভারতের স্বার্থে কিছু মিল থাকতে পারে, তবে দুই দেশের মধ্যে কিছু কূটনৈতিক বিরোধও বিদ্যমান। তবে, এই বৈঠকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে উপকারি হতে পারে।

বাংলাদেশের ভূমিকা ও অর্জন

মিয়ানমারের সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বৈঠকে তিনটি মূল বিষয়ে আলোচনা হবে: সীমান্ত নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা। তবে, আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে পারবে, তবে সে জন্য আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, এই বৈঠক বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সুবিধা এনে দিতে পারে, বিশেষ করে আসিয়ান সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে আলোচনায় বসছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ আশা করছে, এই বৈঠক থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন পেতে পারে, বিশেষ করে আসিয়ান সদস্যভুক্ত হওয়ার দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

Post a Comment

1 Comments

  1. সবকিছু যেন ভালোয় ভালোয় মিটে যায়!!!

    ReplyDelete