Editors Choice

3/recent/post-list

দুবাইতে আরও ৮৫০ বাংলাদেশির সম্পদের সন্ধান

দুবাইতে আরও ৮৫০ বাংলাদেশির সম্পদের সন্ধান

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে-বেনামে অর্থ পাচারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা রূপকথাকেও হার মানিয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলছে। সম্প্রতি দুবাইতে আরও ৮৫০ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

টাস্কফোর্সের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থ পাচারকারীদের সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। দেশব্যাপী এসব পাচারকারীরা নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছে, তবে এসব সম্পত্তির তথ্য জানাতে নিবন্ধন অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে, গাজীপুরে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সম্পত্তি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চিঠি পাঠালেও শূন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে পুলিশ নিজস্ব লোকবল পাঠিয়ে বালাম বই তল্লাশির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নামে থাকা ৭০টি সম্পত্তির সন্ধান পায়।

এছাড়া, অর্থ পাচারকারীরা অনেক সময় বেনামে সম্পদ গড়েছে, যার ফলে তাদের সম্পদ জব্দ করতে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে, বিশেষত ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের জাতীয় বাজেটের চেয়েও বেশি। প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী জাভেদ আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১৮ কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি যুক্তরাজ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ৩৬০টি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমান। ব্রিটেন ছাড়াও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াতেও ৫০০টিরও বেশি বাড়ি কিনেছেন, যার মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকারও বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইসির এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, জাভেদের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনাসহ ফাইল ওয়ার্ক প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত সম্পদের তালিকা যাচাই করতে দুবাই সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দুবাইয়ে আরও ৮৫০ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো তারা রিটার্নে প্রদর্শন করেননি। এই ব্যক্তিদের সম্পদ অনুসন্ধানে শিগগিরই পৃথক দুটি টিম দুবাই যাবে।

Post a Comment

1 Comments

  1. অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

    ReplyDelete