ঢাকা থেকে আগরতলা লং-মার্চের’ ঘোষণা বিএনপির তিন সংগঠনের
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, ভাঙচুর, জাতীয় পতাকা অবমাননা, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান তথ্য সন্ত্রাস এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এবার ‘ঢাকা থেকে আগরতলা লং-মার্চের’ ঘোষণা দিয়েছে।
আজ, সোমবার, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে, গত রোববার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে স্মারকলিপি পেশ করে এই তিন সংগঠন।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, ‘১১ ডিসেম্বর (বুধবার) নয়াপল্টন থেকে সকাল ৮টায় লং-মার্চ শুরু হবে।’ তিনি বাংলাদেশে সর্বস্তরের ছাত্র, যুবক এবং স্বেচ্ছাসেবী জনতাকে এই লং-মার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
যুবদল সভাপতি বলেন, ‘‘আপনারা জানেন যে, ২ ডিসেম্বর ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্য সহিংস হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা ও মিশনের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সহিংস ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ছিল, যা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মৌন সম্মতির ইঙ্গিত দেয়। ভারত সরকার কূটনীতিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘আগরতলা হামলার আগেও ২৮ নভেম্বর কলকাতায় একই ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছিল।’’
মুন্না বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের শামিল।’’ তিনি ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্যও তাদের সমালোচনা করেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযুক্ত করেন, যিনি বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর কথা বলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে লাগামহীন প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে, যা ভারতের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।’’ যুবদল নেতা দাবি করেন, ‘‘ভারত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন মেনে নিতে পারছে না এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাল্পনিক গুজব ছড়াচ্ছে।’’ তিনি জানান, ‘‘ভারত কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হাত দিয়েছে, কিন্তু যখন শেখ হাসিনার শাসনকালে হাজার হাজার মানুষ খুন হয়, তখন ভারত কিছু বলেনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের গ্রেফতার, তদন্ত ও বিচার সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু ভারত তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে।’’
আবদুল মোনায়েম মুন্না ভারতের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘ভারত তার সংখ্যালঘু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। সুতরাং, ভারতের কোনো নৈতিক অধিকার নেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার।’’
এভাবে, বিএনপির তিন সংগঠন ভারতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ‘ঢাকা থেকে আগরতলা লং-মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


1 Comments
নিজের নাক কেটে পরের (বাংলাদেশের)যাত্রা ভঙ্গ করাই মনে হয় ভারতের মিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে!!!
ReplyDelete