সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন নির্দেশনা জারি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এই নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত ও নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এর আগে, ডলার সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে গত অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:

১) সাধারণভাবে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে। ২) কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বিদেশ ভ্রমণের একটি তালিকা আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে হবে। ৩) বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যা প্রধান উপদেষ্টার অফিস তৈরি করবে এবং তথ্য সংরক্ষণ করবে। ৪) একই সময়ে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ এড়াতে হবে। ৫) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসাথে বিদেশ ভ্রমণ এড়াবেন, তবে জাতীয় স্বার্থে একান্ত অপরিহার্য হলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। ৬) মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীন অধিদফতর বা সংস্থার প্রধানরা একসাথে বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন না, যদি না তা জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য হয়। ৭) বিদেশে অনুষ্ঠিত সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অন্য দেশগুলো থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন, এমন তথ্য অবশ্যই সন্নিবেশ করতে হবে। ৮) বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব প্রেরণের সময়, ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমে ভূমিকা ও উপযোগিতা উল্লেখ করতে হবে। ৯) কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট ইত্যাদিতে কেবল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের প্রেরণ করা হবে। ১০) সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। ১১) সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে বিনোদন ভ্রমণ এড়াতে হবে। ১২) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ছুটিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিহার করবেন। ১৩) বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব প্রেরণের সময়, প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণ বৃত্তান্ত সংযুক্ত করতে হবে।

এই নতুন নির্দেশনাগুলো সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকে আরও সুষ্ঠু ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপযুক্ত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।