Editors Choice

3/recent/post-list

ড. ইউনূস: শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য হবে ভারত

 ড. ইউনূস: শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য হবে ভারত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার শেষে রায় হলে, বাংলাদেশ ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করবে। এক্ষেত্রে ভারতকে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় কাজ করতে বাধ্য হতে হবে, এমনটি উল্লেখ করেন তিনি।

গত শনিবার নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, "ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনকাল বাংলাদেশের জন্য ধ্বংসাত্মক ছিল। নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।"

ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের সুপারিশ করবে। জানুয়ারির মধ্যে এসব সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে, তবে এতে সময় লাগবে, কারণ "নতুন বাংলাদেশ" গড়তে তারা একদম শূন্য থেকে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে এবং এর ফলাফলই সময় নির্ধারণ করবে।

এছাড়া সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, "না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি।" তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখা, নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকা উচিত।

ড. ইউনূস বলেন, "শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের রীতি-নীতি চুরমার হয়ে গেছে। তিনবার নির্বাচনে ভোটারবিহীন ভুয়া নির্বাচন করে হাসিনা নিজেকে ও তার দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।"

তিনি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার পতনের কথা তুলে ধরে বলেন, "হাসিনা হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান।" অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

কূটনৈতিক বিষয়ে, ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়া উচিত এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব দেন। তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের জন্য আহ্বান জানান এবং সার্কের উদ্দেশ্যগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এদিকে, ভারতের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, ড. ইউনূস বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, "সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে, তা প্রোপাগান্ডা।" তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে সঠিক তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস চীনকে বাংলাদেশের "বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। এছাড়া, তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ান)–এ বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "২০২৬ সালে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে আসিয়ানের সদস্যপদ গুরুত্বপূর্ণ হবে।"

রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে, ড. ইউনূস বলেন, "বাংলাদেশ কতদিন রোহিঙ্গা সংকট বহন করবে?" তিনি মিয়ানমারে জাতিসংঘ-শাসিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন, যাতে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।


Post a Comment

1 Comments

  1. জ্ঞানী ব্যক্তির কথার ধরণই আলাদা।আল্লাহ ওনাকে নেক হায়াত দান করুন!!!

    ReplyDelete