জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন-ড. ইউনূস
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসন্ন ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। এই খবরটি শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
জুলাই-আগস্ট মাসে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপদেষ্টা তার বক্তব্যে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এবারের জাতিসঙ্ঘ অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে, যেখানে ড. ইউনূস একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যোগ দেবেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবার বাংলাদেশ থেকে চার্টার্ড বিমানে শতাধিক সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে না। বরং সীমিত সদস্যের একটি দল নিয়ে এই সফর হবে।
এবছরের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার অগ্রগতির জন্য একযোগে কাজ করা’। বিশ্বব্যাপী সংকট ও আস্থার অভাব, বহুপাক্ষিকতার প্রতি গুরুত্বহীনতা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্য বিশেষ অর্থ বহন করছে।
এ বছর জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি হওয়ায় এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে বাংলাদেশ একটি উচ্চ পর্যায়ের সংবর্ধনার আয়োজন করবে, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা, জাতিসঙ্ঘের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা অংশগ্রহণ করবেন।
ড. ইউনূস জাতিসঙ্ঘ সাধারণ বিতর্ক পর্বে ২৭ সেপ্টেম্বর তার ভাষণ প্রদান করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত গণআন্দোলন এবং ভবিষ্যতে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, উন্নয়নশীল দেশসমূহের চ্যালেঞ্জ, এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
এছাড়াও, ড. ইউনূস নেদারল্যান্ডস,
পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সাথেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অধিবেশনের পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘের সামিট অব দ্য ফিউচারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে বৈশ্বিক নেতারা ভবিষ্যতের জন্য একটি প্যাক্ট গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এ ইভেন্টে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


0 Comments