ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ: 'হঠকারী সিদ্ধান্ত' হিসেবে সমালোচনা
বাংলাদেশের
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফার মধ্যে
একটি ছিল ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর ৬ আগস্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এই
দাবি জানাতে শুরু করেন। তারা বিভিন্ন সভা ও মানববন্ধনের মাধ্যমে
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ একটি জরিপ চালায়, যেখানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ দলীয়
রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেন।
সম্প্রতি
মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামের এক 'মানসিক ভারসাম্যহীন' যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত
সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই
সিদ্ধান্তের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। যদিও বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত
জানিয়েছেন, ছাত্রনেতারা একে 'হঠকারী সিদ্ধান্ত' বলে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করেন, এতে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা হারাতে পারে এবং রাজনীতির সংকট আরও প্রকট হবে। ছাত্রনেতাদের মতে, এই সিন্ডিকেট সদস্যদের
অধিকাংশই গত 'ফ্যাসিবাদী সরকারের' দালাল।
ছাত্রদলের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ধারণা, তা
সব সময় মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশকে
ধারণ করে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের
চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের সঙ্গে রাজনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে
বেমানান।”
তিনি
সতর্ক করে দেন যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনীতিতে
ছাত্ররাজনীতি আরও সুসংহত হওয়া প্রয়োজন, অথচ এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের
ফলে গণতন্ত্রকামী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিস্মিত
হবে।
তিনি
আরও জানান, যেসব সিন্ডিকেট সদস্যের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ফ্যাসিবাদের দোসর, যারা অতীতে ছাত্রদের ওপর পুলিশ ও র্যাবকে
গুলি করতে লেলিয়ে দিয়েছিল।
এমন
পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই উদ্বেগের বিষয়টি
বিবেচনায় নেবে।


0 Comments