Editors Choice

3/recent/post-list

ব্যবসায়ীদের লাভের গুড়: শুল্ক ছাড়ের পরও ক্রেতাদের অস্বস্তি

ব্যবসায়ীদের লাভের গুড়: শুল্ক ছাড়ের পরও ক্রেতাদের অস্বস্তি



মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার পেঁয়াজ, আলু, ভোজ্য তেল, চিনি, ডিম ও চাল আমদানিতে শুল্ককর ছাড় দিয়েছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে দেখা গেছে, শুল্ক ছাড় পাওয়া পণ্যের মধ্যে শুধু ডিমের দাম কিছুটা কমেছে; অন্যদিকে বেড়েছে পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, চিনি, আলু ও চালের দাম।

শুল্ক ছাড় পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের আশা ছিল যে, পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনও বাজারে শুল্ক ছাড় পাওয়া পণ্যের সবগুলো আসেনি, এবং বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা শুল্ক ছাড়ের সুফল ভোগ করছেন।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আমদানিতে শুল্ক ছাড় পাওয়া ছয়টি পণ্যের মধ্যে পাঁচটির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১১০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা। তাছাড়া, ভারতীয় পেঁয়াজের দামও বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

চিনির ক্ষেত্রে, গত মাসে শুল্ককর কমানোর পরও খোলা চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্য তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে; খোলা সয়াবিন তেলের দাম এক মাসে ছয় থেকে ১১ টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। আলুর দামও বেড়ে বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চালের দাম বাড়লে। যদিও সরকার চাল আমদানিতে শুল্ককর ছাড় দিয়েছে, এখনও আমদানি শুরু হয়নি। তাছাড়া, চালের দাম নতুন করে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষজনের জীবনযাত্রা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। খিলক্ষেতের জগন্নাথ জানান, সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিমাসে ঋণ নিতে হচ্ছে। দুই মেয়েকে সঠিকভাবে খাওয়াতে পারছেন না। ঢাকার বাইং হাউজের কর্মী মহিনও একই পরিস্থিতির শিকার। তিনি বলেন, মাসের মধ্যে শুধু একবার মাংস খেয়েছেন এবং সবজির দাম বাড়ায় খাবার খাওয়ার পরিস্থিতি সংকটাপন্ন।

রিকশা চালক করিম জানান, তিনি ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সমস্যায় আছেন। তার কথায়, “খাবারের দাম এত বেশি যে, কখনও কখনও না খেয়ে থাকতে হয়।”

ভোক্তা অধিদপ্তর বাজারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। তারা জানিয়েছে, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে, যা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক জানিয়েছেন, টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং সরবরাহ লাইন ঠিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, শুল্ক ছাড়ের সুফল সাধারণ মানুষ কবে পাবে?


Post a Comment

1 Comments

  1. দ্রুত পদক্ষেপ নিন।সাধারণ মানুষের জীবন দূর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে এই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে।

    ReplyDelete