Editors Choice

3/recent/post-list

নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিভিন্ন মহলের বক্তব্য

নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিভিন্ন মহলের বক্তব্য


বাংলাদেশে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন বার বার উঠে আসছে: পরবর্তী সংসদ নির্বাচন কবে হবে? প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে আসছে, কিন্তু সরকার এখনও সে ধরনের কোনো রোডম্যাপ প্রকাশ করেনি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন, "নির্বাচনের সময় নির্ধারণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, আমাদের হাতে নয়।" রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের পর জানানো হয়েছিল যে, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পর নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দশটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। তবে, এই সংস্কারের কাজ করতে কত সময় লাগবে এবং কবে নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি সরকার।

সেনাপ্রধানের বক্তব্য

গত ৮ আগস্ট, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "নির্বাচন আগামী আঠারো মাসের মধ্যে হতে পারে," এবং তিনি পরিস্থিতি যাই হোক, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের নেতৃত্বে সংস্কার সম্পন্ন করতে সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই কাজ হওয়া উচিত।"

সরকারের অবস্থান

সেনাপ্রধানের বক্তব্য সরকার তার 'নিজস্ব মতামত' হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, "নির্বাচনের সময় নির্ভর করবে কমিশনের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক আলোচনার ওপর।" তিনি বলেন, "নির্বাচনের সময় কবে হবে তা এখন বলা সম্ভব নয়।" 

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হতে পারে," তবে তিনি সতর্ক করেন যে অনেক ফ্যাক্টর বিবেচনায় রাখতে হবে। 

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

এদিকে, বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়ে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "নির্বাচন যত দ্রুত হবে, ততই জাতির জন্য মঙ্গল হবে।" বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সরকারের অস্পষ্ট বক্তব্যের প্রতি জনগণের সন্দেহের কথা তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার দাবী করছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার অপরিহার্য।"

এছাড়া, এলডিপি, গণফোরাম ও অন্যান্য দলের নেতারা মনে করেন যে, সংস্কার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন হওয়া উচিত।

এখন, দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন সংক্রান্ত সময়সীমা এবং পরিকল্পনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্টতা প্রত্যাশা করছে।

Post a Comment

1 Comments

  1. দেশ পুরোপুরিভাবে সংস্কারের পরই নির্বাচন দেয়া উচিত।দেশের স্বার্থে কোন দল কি মত পোষণ করলো সেটা আমলে নেয়ার এত প্রয়োজন নেই কারণ তারা তো নিজেদের স্বার্থেই কথা বলবে।

    ReplyDelete