ইসরাইলকে পরাজিত করার অঙ্গীকার খামেনির
ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনকে রুখতে মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি এক হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানান। শুক্রবার তেহরানে ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় তিনি বলেন, “আমাদের শত্রুপক্ষ মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ ছড়িয়ে দিতে বিভাজন ও ঘৃণার বীজ বপন করছে। তারা ফিলিস্তিনি, লেবাননি, মিসরীয় এবং ইরাকিদেরও শত্রু। আমাদের শত্রু একই।”
গত এক বছরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকে হাজার হাজার মানুষ হত্যার জবাবে ইরান মঙ্গলবার ইসরাইলে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল উত্তেজনা তৈরি করেছে। হামলার পর ইসরাইল যে কোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।
জুমার নামাজে খুতবায় খামেনি হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসারুল্লাহর কথা স্মরণ করে বলেন, “নাসারুল্লাহ আর আমাদের মধ্যে নেই, তবে তার আদর্শ আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি বলেন, নাসারুল্লাহর জীবনদান বৃথা যাবে না এবং আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
খামেনি গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের অভিযানকে “সঠিক পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, “লেবানিজ ও ফিলিস্তিনিরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছে, ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার কোনো আন্তর্জাতিক আইনে নেই।”
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “কোনো সন্দেহ নেই যে জায়নবাদী ও আমেরিকানরা অনেক স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু আমরা জায়নবাদীদের শিকড় উপড়ে ফেলব। তাদের কোনো শিকড়ই নেই, তারা ভুয়া ও অস্থিতিশীল।”
খুতবায় খামেনিকে একনজর দেখতে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। অনেক মুসল্লির হাতে ছিল হিজবুল্লাহর পতাকা, আবার কেউ কেউ ফিলিস্তিনের পতাকা ধরেছিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের “ভাই” হিসেবে দেখার কথা বলেন। কাতারের রাজধানী দোহায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সাথে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, “সব মতপার্থক্য একপাশে রেখে আমাদের একে অপরের সঙ্গে অভিন্নতা ও সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।”
পেজেশকিয়ান গাজা উপত্যকা ও লেবাননের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাবলীর কথাও তুলে ধরেন, যা ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, “যদি আজ ইহুদিবাদী শাসক গাজায় অপরাধ করে থাকে, তা ইসলামি দেশগুলোর বিভেদ ও উদাসীনতার কারণে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা আগ্রাসনের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ না হই, তবে আজ গাজা ও লেবাননের বিরুদ্ধে হলেও, আগামীতে অন্যান্য মুসলিম শহর ও দেশের বিরুদ্ধে হবে।”
এভাবে, খামেনি ও পেজেশকিয়ানের বক্তব্য মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে এবং চলমান সংকটের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান জানাচ্ছে।


4 Comments
ধন্যবাদ মুসলীম বিশ্বের নেতা। আমরা আপনার সাথে আছি। আশা করছি আল্লাহ আমাদের এই মনবাসনা পূর্ন করবেন।
ReplyDeleteজালিমদের পতন হবে ইনশাআল্লাহ। মুসলিমদের ✌ অনিবার্য
ReplyDeleteআপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ!
Deleteইনশাআল্লাহ! ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত! আমাদের ধৈর্য ধারন করে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে!
ReplyDelete