Editors Choice

3/recent/post-list

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংহত না হলে বিচার বিভাগও স্বাধীন হবে না

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংহত না হলে বিচার বিভাগও স্বাধীন হবে না


বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বিচারকদের দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তার জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন আলোচকরা। শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুত্থান ও আইনি সংস্কার: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। 

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। এটি দ্য ডেইলি স্টারের আয়োজনে সংবিধানবিষয়ক সিরিজ আলোচনা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক বলেন, "বিচারকদের বুঝতে হবে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য এবং গঠনমূলক সমালোচনা কিভাবে ভিন্ন। বিচারকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে।" 

তিনি মনে করেন, মামলার জট এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার জন্য আইনজীবীদেরও দায় রয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিম হোসেন বলেন, "গত ১৫ বছরে বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উচ্চ আদালত যদি রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে নিম্ন আদালত কিভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে?" তিনি আরও বলেন, "যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে দিই, তাহলে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।"

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, "অসুস্থ রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের দ্বারা পরিচালিত হলে বিচার বিভাগ শক্তিশালীভাবে দাঁড়াতে পারবে না।" তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পচন দুইভাবে ঘটে—একটি রাজনৈতিক নিয়োগ এবং অন্যটি অর্থ ও সুবিধা। 

এসময় তিনি বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় এবং বিচারক পদায়নের জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পুলিশ, জনপ্রশাসন এবং চলতি ধারার রাজনীতিতে সংস্কার প্রয়োজন।" 

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক নাফিজ আহমেদ বিচারকদের নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুপারিশ করেন। 

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সার্বিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।"

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবরণকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, কবি-লেখক কাজল রশীদ শাহীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম খালেকুজ্জামান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সাঈদ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সাইমি ওয়াদুদ এবং অন্যান্য বক্তারা।

বক্তারা জেলা আদালতগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নিয়ে আসা, পুলিশ ও কারা সংস্কারের তাগিদ দেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, "বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে তা রাজনৈতিক এবং দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে। এতে মানুষ সুশাসন পাবে।" 

তিনি আরও বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণ যেন ন্যায়বিচার পায়, যা না পেতে পেতে বিচার বিভাগের ওপর আমাদের আস্থা হারিয়ে গেছে।"

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংবিধানবিশেষজ্ঞ আরিফ খান।


Post a Comment

2 Comments

  1. আমরা জনসাধারণরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়

    ReplyDelete