Editors Choice

3/recent/post-list

হাসিনা সরকারের ঋণের বোঝা: জনগণের গলার কাঁটা

হাসিনা সরকারের ঋণের বোঝা: জনগণের গলার কাঁটা


শেখ হাসিনা সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ গত জুন পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকায়। এই ঋণ বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চড়া সুদে নেওয়া এই ঋণের একটি অংশ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। উন্নয়নের নামে নেওয়া এসব ঋণ এখন দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সংকট হয়ে উঠেছে। 

বর্তমানে ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের রিজার্ভে চাপ পড়ছে। রিজার্ভ কমার ফলে ডলারের দাম বেড়ে গেছে, যা আমদানি পণ্য ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের একটি অংশ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের শুরুতে ক্ষমতায় আসে এবং টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি-বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে। আগে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ কঠিন ছিল, কিন্তু সরকারের নীতিমালা শিথিল করার ফলে ঋণ নেওয়া সহজ হয়ে যায়। ফলে ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়াই ঋণ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৭৯ কোটি ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১০ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৯ সাল থেকে সরকার নতুন ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা ৩৫৫.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।

বিগত সরকার ২০২২ সালে বৈশ্বিক মন্দার কারণে ঋণ পরিশোধের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ডলারের সংকট তৈরি হয়। বর্তমানে মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি খাতে ৮ হাজার ৩২১ কোটি ডলার এবং বেসরকারি খাতে ২ হাজার ৫৭ কোটি ডলার রয়েছে। 

অর্থনীতির এই সংকটের ফলে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয়েছে। ঋণের সুদের হার বাড়ানোর কারণে ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। গত চার বছরে বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে কমিশন বাবদ ৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।

সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলে আগামী জুনের মধ্যে ১ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারের ঋণ শোধ করতে হবে। যদিও সরকার কিছু বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেছে, তবে রিজার্ভ থেকে ডলার নিতে হয়নি। 

এভাবে সরকারী ঋণের পরিমাণ বাড়ানো এবং সঠিক নীতি গ্রহণের অভাব দেশের অর্থনীতিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

Post a Comment

2 Comments

  1. বিদেশে যে অর্থ পাচার হয়েছে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তাহলে একটু হলেও দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে।

    ReplyDelete
  2. এই শয়তানকে আর দেখতে চাই না!!! এরে ফাঁসি দিন

    ReplyDelete